৫০ হাজার টাকায় চুক্তিতে ঘুমন্ত শ্বশুরকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা!

৫০ হাজার টাকায় চুক্তিতে ঘুমন্ত শ্বশুরকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা!

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

বসতভিটার জমি লিখে না দেওয়ার ক্ষোভে এক প্রবীণ শ্বশুরকে মাত্র ৫০ হাজার টাকায় চুক্তি করে শ্বাসরোধে হত্যার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার নিজ পুত্রবধূর বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে ঘাতক পুত্রবধূসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরবর্তীতে তাদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন—নিহতের পুত্রবধূ ও মামলার প্রধান এজাহারভুক্ত আসামি হোসনা বেগম (৩৮), রুহুল আমিন (২২) এবং নজরুল ইসলাম (২০)।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ২ নম্বর নরসিংপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে গত ১৪ আগস্ট ২০২৬ রাত আনুমানিক ১২টার দিকে নিজ শয়নকক্ষে মোহাম্মদ আলী (৭৫) নামের ওই বৃদ্ধকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর নিহতের নাতনি মোছা. আছমা বেগম (২৬) বাদী হয়ে দোয়ারাবাজার থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার বিবরণ ও পুলিশি তদন্তে জানা যায়, বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলী তার পৈতৃক ভিটায় বসবাস করে আসছিলেন। উক্ত জমির মালিকানা পুত্রবধূ হোসনা বেগম ও সৌদি আরবপ্রবাসী ছেলে ইসমাইল মিয়ার নামে লিখে দেওয়ার জন্য তারা চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন। জমি লিখে না দেওয়ায় তীব্র পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

অভিযোগ মতে, পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হোসনা বেগম তার দূরসম্পর্কের ভাগনে রুহুল আমিনকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে শ্বশুরকে হত্যার দায়িত্ব দেন। ঘটনার রাতে বৃদ্ধ ঘুমিয়ে পড়লে হোসনা বেগম ঘরের পেছনের দরজা খুলে দেন। এরপর ভাড়াটে খুনিরা ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত বৃদ্ধের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা সুনিশ্চিত করে।

পরদিন ১৫ আগস্ট সকালে ঘটনাটি আড়াল করতে স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার চালান হোসনা বেগম এবং তড়িঘড়ি করে দাফনের চেষ্টা করেন। তবে নিহতের মুখে রক্ত ও গলায় কালো দাগ দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করে এবং জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে পুত্রবধূ হোসনা বেগম চুক্তির মাধ্যমে হত্যার কথা স্বীকার করেন। গ্রেপ্তার ৩ আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *