শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণে স্বামীকে সহযোগীতার অভিযোগে মাদ্রাসার পরিচালক স্ত্রী আটক

শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণে স্বামীকে সহযোগীতার অভিযোগে মাদ্রাসার পরিচালক স্ত্রী আটক

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

রাজধানীর উপকণ্ঠ সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের নারকীয় ঘটনার জন্ম দিয়েছেন ওই প্রতিষ্ঠানেরই প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল বারী (৫০)। ন্যক্কারজনক এই অপরাধ সংঘটনের পর থেকে লম্পট শিক্ষক পলাতক থাকলেও, অপরাধে প্রত্যক্ষ সহায়তা এবং ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চালানোর অভিযোগে তাঁর স্ত্রী ও মাদ্রাসার পরিচালক তোহফাতুল জান্নাহকে গ্রেপ্তার করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর ২০২৬) তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (২১ অক্টোবর ২০২৬) সকাল দশটার দিকে ছোট কালিয়াকৈর এলাকার ‘তোহফাতুল জান্নাহ মহিলা মাদ্রাসা’র ভেতরের একটি কক্ষে এই পাশবিক ঘটনা ঘটানো হয়। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল বারী জোরপূর্বক ওই তেরো বছরের কিশোরী ছাত্রীর ওপর এই নির্যাতন চালান।

ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চক্রান্তে লিপ্ত হন খোদ ওই শিক্ষকের স্ত্রী তোহফাতুল জান্নাহ। অপরাধ আড়াল করতে তিনি নিজেই ভুক্তভোগী ছাত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করান এবং কাউকেই মুখ না খোলার জন্য জীবননাশের কড়া হুমকি দিয়ে সেই দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত মাদ্রাসার একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরবর্তীতে ওই মাদ্রাসার এক নারী রান্নাবান্নার সহকারীর গোপনে সহযোগিতায় কোনোমতে রক্ষা পেয়ে ছাত্রীটি বাড়ি ফিরে গিয়ে তার দাদাকে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

পরিবারের মাধ্যমে এই রোমহর্ষক সংবাদ জানাজানি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। বিক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত জনতা রাতে ওই শিক্ষকের বাসভবন ও মাদ্রাসা ভবন ঘেরাও করে প্রধান অভিযুক্তের স্ত্রী ও ছেলেকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের কাজেও বাধা প্রদান করে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সন্ধ্যায় মাদ্রাসা ও অভিযুক্তের বাসার কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত নয়টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পুলিশ সদস্যরা অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে নিজেদের সহকর্মীসহ অভিযুক্তের স্ত্রী তোহফাতুল জান্নাহ ও তাঁর ছোট ছেলেকে নিরাপদে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। বর্তমানে ওই এলাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে মতিউর রহমান নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন যে, অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল বারীর স্ত্রী নিজে শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকার অজুহাত দেখিয়ে মাদ্রাসার অন্য ছাত্রীদেরও তাঁর স্বামীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতেন। যদিও এই বিশেষ অভিযোগটির সত্যতা এখনো নিরপেক্ষভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

পুরো বিষয়টি নিয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর দাদার দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে প্রধান অভিযুক্তের স্ত্রীকে গ্রেফতার দেখিয়ে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। মূল অভিযুক্ত মাওলানা আব্দুল বারীকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া অপরাধে স্ত্রীর সুনির্দিষ্ট ও নেপথ্যের ভূমিকা কতখানি ছিল, তা রিমান্ড ও অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *