মাগুরা প্রতিনিধি:
মাগুরা পৌরসভার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রয়েল এক্সপ্রেসের কাউন্টারে ঢুকে যুবদল নেতা সাকের হোসেনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন রনি শিকদার ও শামীমা ইয়াসমিন। বৃহস্পতিবার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
নিহত সাকের হোসেন (৩৯) মাগুরা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি শহরের পারনান্দুয়ালী গ্রামের মৃত কুতুবুদ্দিনের ছেলে। পাশাপাশি তিনি মাগুরা বাস টার্মিনালে রয়েল এক্সপ্রেসের কাউন্টার মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বাস টার্মিনালে রয়েল এক্সপ্রেসের কাউন্টারের ভেতরে সাকেরকে গুলি করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় সাইলেন্সার পাইপ খোলা একটি মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি সেখানে আসেন। মোটরসাইকেলটি চালু রেখেই তাঁদের একজন কাউন্টারের ভেতরে ঢুকে সাকেরের মাথায় গুলি করেন। পরে তাঁরা দ্রুত মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যান।
বিজ্ঞাপন
গুলিবিদ্ধ সাকেরকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় বুধবার রাতে নিহতের স্ত্রী শারমিন নাহার মাগুরা সদর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ওই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজন হিসেবে রনি শিকদার ও শামীমা ইয়াসমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রনি শিকদার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের নেতা বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, শামীমা ইয়াসমিন মাগুরা জেলা জজ আদালতের একজন আইনজীবীর বোন।
এদিকে, সাকের হোসেন হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে মাগুরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। মিছিল শেষে মধুমিতা সিনেমা হলের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান বলেন, মামলার তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে। খুব শিগগিরই প্রকৃত আসামিদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। ছবি সংগৃহীত।
