স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
রাজধানীর আগারগাঁওস্থ বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে আকস্মিক পরিদর্শন চালিয়ে স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচ্ছন্নতার চরম অবহেলা প্রত্যক্ষ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিদর্শনকালে এক জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকের নিজ কক্ষে ধূমপান ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ হাতেনাতে ধরে ফেলে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে আগারগাঁওয়ের এই শীর্ষ শিশু চিকিৎসালয়ে আগাম ঘোষণা ছাড়াই পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ড ও বিভাগ ঘুরে ঘুরে দেখেন। একই সঙ্গে সেখানকার কর্মকর্তা, চিকিৎসা কর্মী ও চিকিৎসকদের পেশাগত দায়িত্ব পালন, কাজের সার্বিক পরিবেশ এবং চিকিৎসা প্রাঙ্গণের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন।
বিজ্ঞাপন
পরিদর্শনের একপর্যায়ে তিনি হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের কক্ষ তদারকি করতে যান। এ সময় চিকিৎসক রফিকুলকে নিজ সরকারি কক্ষে বসে ধূমপানরত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং একই সাথে পুরো কক্ষটি অত্যন্ত নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় দেখতে পান প্রধানমন্ত্রী। চিকিৎসা প্রদানকারী একটি সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের ভেতরে চিকিৎসকের এমন দৃষ্টিকটু অনিয়ম ও চরম দায়িত্বহীন আচরণে ভীষণ ক্ষোভ ও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন সরকারপ্রধান।
হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর স্থানে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করার সাথে সাথেই প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। তিনি উপস্থিত হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হককে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সরাসরি নির্দেশ প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর ও স্পষ্ট আদেশের পরপরই সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়।
এ ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে কোনো ধরনের গাফিলতি বা দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ বরদাস্ত করা হবে না। একই সাথে তিনি দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে শতভাগ স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সাথে নিজ নিজ কর্তব্য পালনের ওপর জোর গুরুত্বারোপ করেন। ছবি সংগৃহীত।
