বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় অঞ্চলে ঐতিহাসিক ক্ষয়ক্ষতির ন্যায্য ক্ষতিপূরণ আদায়, ঋণভিত্তিক অর্থায়ন বন্ধ এবং টেকসই জলবায়ু ইনসাফ প্রতিষ্ঠার দাবিতে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিশাল মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১০টায় কলাপাড়া প্রেস ক্লাব চত্বরে পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক নাগরিক সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা), নদী ও জলাশয় রক্ষায় সক্রিয় আন্দোলনকারী উদ্যোগ ‘ওয়াটার কিপার্স বাংলাদেশ’ এবং ‘আমরা কলাপাড়াবাসী’ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যৌথভাবে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে। কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার স্থানীয় মানুষ, পরিবেশকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) কলাপাড়া উপজেলা সমন্বয়কারী মেজবাহউদ্দিন মাননু, পরিবেশ সংগঠক তানজিল জামান জয়, নজরুল ইসলাম, আমরা কলাপাড়াবাসী সংগঠনের সভাপতি নাজমুস সাকিব এবং শিক্ষার্থী সাব্বিরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বিজ্ঞাপন
সমাবেশে বক্তারা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের চরম প্রভাব ও ক্ষয়ক্ষতির ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবি কোনো অনুকম্পা বা দয়া নয়, বরং এটি ক্ষতিগ্রস্ত দেশের জনগণের মৌলিক অধিকার। ধনী ও শক্তিশালী শিল্পোন্নত দেশসমূহ এবং বিশ্বমানের পরিবেশ-দূষণকারী করপোরেশনগুলো বছরের পর বছর ধরে জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক অর্থনীতি থেকে বিপুল মুনাফা অর্জন করে আসছে। অথচ বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ু বিপর্যয়ের ফলে প্রতিনিয়ত বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, তীব্র নদীভাঙন ও ব্যাপক ফসলাহানির প্রধান ধকল ও অপপূরণীয় ক্ষতি বহন করতে হচ্ছে উন্নয়নশীল দেশের কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ ও উপকূলীয় অরক্ষিত অঞ্চলসমূহের নিরপরাধ জনগণকে।
আন্দোলনকারীরা আক্ষেপ করে বলেন, অভিযোজনের নামে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে অর্থ সহায়তার আড়ালে পুনরায় নতুন ঋণের বিষাক্ত ফাঁদে ফেলা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে ঋণভিত্তিক অর্থায়ন বন্ধ করে শতভাগ অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন চালু, উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং প্রধান দূষণকারী দেশগুলোর কাছ থেকে ঐতিহাসিক ক্ষয়ক্ষতির সরাসরি জরিমানা আদায় করতে হবে।
একই সাথে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিস্তারকে কেবল করপোরেট মুনাফা বৃদ্ধির নতুন হাতিয়ার হিসেবে না দেখে জনগণের স্বার্থে সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব ও সর্বজনীন মূলধন হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি খাস জমিতে প্রকৃত ভূমিহীন মানুষের স্বত্ব প্রতিষ্ঠা, স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী বীজের সুরক্ষার মাধ্যমে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা বাস্তবায়ন এবং প্রান্তিক নারী কৃষকদের শ্রম ও জমির প্রথাগত অধিকার স্বীকার করে নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে বক্তারা জলবায়ু আন্দোলনের গতি বাড়াতে কৃষক, শ্রমিক, নারী ও সুশীল সমাজের সমন্বয়ে একটি জোরালো ও ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন গড়ে তোলার উদাত্ত আহ্বান জানান।ছবি প্রতিবেদক।
