মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি:
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নে সারের ডিলারশিপ বরাদ্দ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আমিনুর রহমান কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. মফিদুল ইসলামের স্ত্রী নাইমা ইসলামের নামে ‘বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স’ ডিলারশিপ পাওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা। তাঁদের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। এ ঘটনায় দলের ত্যাগী ও নির্যাতনের শিকার তৃণমূল নেতাকর্মীদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৪৮ বছর বয়সী মো. মফিদুল ইসলামের স্ত্রী নাইমা ইসলাম (৩২) ‘বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী হিসেবে বালিদিয়া ইউনিয়নে সারের ডিলারশিপ পেয়েছেন । বিএনপি সরকারের আমলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতার পরিবারের সদস্যের নামে ডিলারশিপ বরাদ্দের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মুকুল ও সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শরিফুজ্জামান টুকু দাবি করেন, মফিদুল ইসলাম সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ড. রইস উদ্দিনের ছোট ভাই। তাঁদের অভিযোগ, ড. রইস উদ্দিনের মাধ্যমে এ ডিলারশিপ পেয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম মেহেদী হাসান সবুজ ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “ডিলারশিপ নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি পরিলক্ষিত হয়েছে। তাই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে নতুন করে নিয়োগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা অনেক নেতাকর্মী ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেছেন। কিন্তু চূড়ান্ত বরাদ্দের ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, আর্থিক ও ব্যবসায়িক সক্ষমতা এবং কৃষকদের কাছে সুষ্ঠুভাবে সার সরবরাহের বিষয়গুলো কতটা গুরুত্ব পেয়েছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সার কৃষির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। তাই ডিলার নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ব্যক্তিগত প্রভাবের অভিযোগের ঊর্ধ্বে থেকে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ, যোগ্যতা যাচাই এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় কৃষকের সারপ্রাপ্তি ও সরকারি বরাদ্দের ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।
বালিদিয়া ইউনিয়নে সারের ডিলারশিপ বরাদ্দ নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে ডিলারশিপ পাওয়া প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী নাইমা ইসলাম এবং তাঁর স্বামী মো. মফিদুল ইসলামের বক্তব্যও এ প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে—বালিদিয়া ইউনিয়নে সারের ডিলার নিয়োগে নির্ধারিত নীতিমালা ও যোগ্যতার মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না? অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য প্রকাশের মাধ্যমে বিষয়টির সুরাহা চান স্থানীয়রা। ছবি সংগৃহীত।
