মোঃ মাসুদ রানা, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতিমূলক সভা শেষ করে প্রশাসনিক গাড়িতে ওঠার মুহূর্তে এক কান্নারত অসহায় বৃদ্ধার মুখোমুখি হন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ। পরম মমতায় বৃদ্ধার কাছে গিয়ে কান্নার কারণ জানতে পেরে জানতে পারেন, পারিবারিক কলহের জেরে ছেলেরা তাঁকে নিজ বসতবাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। কোথাও মাথা গোঁজার ঠাঁই না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন ওই বৃদ্ধা। বিষয়টি জানার সাথে সাথেই প্রশাসনিক গণ্ডি পেরিয়ে অসহায় বৃদ্ধার পাশে দাঁড়িয়ে অনন্য মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন ইউএনও।
মানবিক ও প্রশংসনীয় এই ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর সুন্দরপুর-দুর্গাপুর ইউনিয়নের বড় ভাটপাড়া গ্রামে। ভুক্তভোগী ওই বৃদ্ধার নাম পরমিলা। তাঁর স্বামী বহু আগেই মারা গেছেন। বর্তমানে তিনি অন্যের বাড়িতে কাজ করে অত্যন্ত কষ্টে জীবনযাপন করছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নিজ বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে কোথায় আশ্রয় নেবেন তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও দুঃশ্চিন্তায় ভেঙে পড়েছিলেন অসহায় পরমিলা। তাঁর চোখের জল দেখে তাৎক্ষণিকভাবে কালক্ষেপণ না করে তাঁকে নিজের প্রশাসনিক গাড়িতে তুলে নেন ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদ এবং সরাসরি বৃদ্ধার বড় ভাটপাড়া গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে যান।
বিজ্ঞাপন
সেখানে পৌঁছে ইউএনও সরেজমিনে বৃদ্ধার দুই ছেলে, তাঁদের স্ত্রী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ডেকে নিয়ে আলোচনায় বসেন। সবার বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পর সুচতুর প্রশাসনিক নেতৃত্ব ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের স্থায়ী সমাধান করে দেন। একই সাথে ছেলেদের কাছ থেকে পরম শ্রদ্ধায় বৃদ্ধা মাকে ঘরে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি আদায় করে তাঁকে পুনরায় স্বসম্মানে তাঁর নিজ ঘরে থাকার ব্যবস্থা করে দেন।
একজন অসহায় ও গৃহহীন হতে যাওয়া বৃদ্ধার কান্নায় সাড়া দিয়ে প্রশাসনিক ব্যস্ততার মাঝেও নিজে গিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর এই ঘটনাটি এলাকা জুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। এটি কেবল এক প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন নয়, বরং সমাজে প্রবীণ ও বৃদ্ধ পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব, শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসার গুরুত্বকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ছবি সংগৃহীত।
