স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর সদর উপজেলার কচুয়া নতুন বাজার এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে এক নারীকে বেধড়ক মারধর, ধারালো অস্ত্র দিয়ে মুখে আঘাত করে রক্তাক্ত, গলা চেপে ধরে হত্যাচেষ্টা এবং বসতঘরে হামলা ও লুণ্ঠনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী খাদিজা খাতুন (৩৮) বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে খাদিজা খাতুন উল্লেখ করেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে কচুয়া নতুন বাজারের মোল্যাপাড়ায় নিজ বাড়িতে তিনি একা অবস্থান করছিলেন। এ সুযোগে অভিযুক্তরা লোহার রড, ধারালো দা, এসএস পাইপ ও লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাঁর ঘরে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে অভিযুক্ত শহিদ (৪৩) তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে শারীরিক ক্ষতিসাধন করেন এবং পরবর্তীতে ধারালো দা দিয়ে মুখে সরাসরি আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করেন।
বিজ্ঞাপন
নৃশংস এই হামলায় অপর অভিযুক্ত সাবানা বেগম (৩৫) ভুক্তভোগী খাদিজাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও চুল ধরে টেনে-হিঁচড়ে নির্যাতন চালান। একই সময় সালেহা বেগম (৬০) নামের অপর অভিযুক্ত তাঁর গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। নির্যাতনের পাশাপাশি তাঁর পরনের পোশাক টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালানো হয়। পরবর্তীতে হামলাকারীরা বসতঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে তাণ্ডব চালায় এবং ঘরে গচ্ছিত রাখা গরু বিক্রির নগদ ২০ হাজার টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী খাদিজার আকুল চিৎকারে আশেপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় শহিদ, তাঁর স্ত্রী সাবানা বেগম ও সালেহা বেগমসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন খাদিজা খাতুন। বর্তমানে আসামিদের ক্রমাগত ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম জানান, “ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।” ছবি সংগৃহীত।

