স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের চৌগাছা উপজেলায় গরু চুরির সন্দেহে ক্রুদ্ধ জনতার অমানবিক গণপিটুনিতে মারাত্মক আহত মিজানুর রহমান (৪০) নামে এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।
গত রোববার (৪ অক্টোবর ২০২৬) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার স্বরূপদাহ ইউনিয়নের বাঘারদাড়ি গ্রামে গণধোলাইয়ের ঘটনাটি ঘটে। পরবর্তীতে আজ সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ৮টার দিকে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত মিজানুর রহমান কুষ্টিয়া জেলার বাটকেমারি গ্রামের অধিবাসী।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্র জানায়, রোববার গভীর রাতে বাঘারদাড়ি গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে ইদ্রিস আলীর বসতবাড়িতে তিনজনের একটি চোরচক্র প্রবেশ করে। চক্রটি গোয়ালঘরের তালা ভাঙার চেষ্টা চালাকালে গৃহস্থ ইদ্রিস আলী তা টের পান। তিনি চিৎকার শুরু করলে মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের প্রতিবেশীরা সংগঠিত হয়ে তাদের ধাওয়া করেন। এ সময় চোরচক্রের দুজন দ্রুত সটকে পড়তে সক্ষম হলেও স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েন মিজানুর রহমান। পরবর্তীতে উত্তেজিত জনতা তাঁকে বেধড়ক গণপিটুনি দিলে তিনি মারাত্মক আহত হন।
গৃহস্থ ইদ্রিস আলী জানান, তিনি রাতে ঘর থেকে বাইরে বের হলে গোয়ালঘরের সামনে তিনজনকে তালা ভাঙতে দেখেন। তাঁর হাঁকডাকে গ্রামের লোকজন ছুটে এসে একজনকে ধরে ফেলে, বাকিরা পালিয়ে যায়। তিনি আরও দাবি করেন, গত বছরও তাঁর গোয়ালঘর থেকে তিনটি মূল্যবান গরু চুরি হয়েছিল।
খবর পেয়ে চৌগাছা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় মিজানুরকে উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে নিবিড় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সোমবার সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রেজা উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অনবরত ও অতিরিক্ত শারীরিক আঘাতের ফলে শরীরের ভেতরে ব্যাপক অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ (ইন্টারনাল ব্লিডিং) হওয়ায় তাঁর মৃত্যু ঘটেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ জানান, পুলিশ গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার জন্য যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই ঘটনার সঠিক কারণ উন্মোচন ও জিজ্ঞাসাবাদের স্বার্থে ইতিমধ্যে একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্তে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।
