মোঃ মাসুদ রানা, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় দাম্পত্য কলহ ও সামান্য তর্কাতার্কির জের ধরে ঘুমন্ত স্বামীর গলা ও গোপনাঙ্গ ব্লেড দিয়ে কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে।
চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস এ ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দি গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
হামলায় গুরুতর আহত স্বামীর নাম মিরাজ বিশ্বাস (৫০)। তিনি আড়ুয়াকান্দি গ্রামের আবু বকর বিশ্বাসের ছেলে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত মিরাজ বিশ্বাস জানান, প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর প্রায় এক বছর আগে তিনি সুমাইয়া খাতুনকে বিয়ে করেন। গত ২-৩ দিন ধরে তিনি তীব্র জ্বরে ভুগছিলেন। কিন্তু স্ত্রী তার সঠিক সেবা-যত্ন না করায় তাদের মধ্যে পারিবারিক কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি স্ত্রীকে একটি থাপ্পড় মারেন। পরবর্তীতে বুধবার রাতে তারা যথারীতি একই ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ৩টার দিকে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে বাইরে যান এবং পুনরায় ঘরে ফিরে ঘুমিয়ে পড়লে স্ত্রী সুমাইয়া ধারালো ব্লেড দিয়ে তার গলা ও গোপনাঙ্গে অতর্কিত আঘাত চালিয়ে কেটে দেয়।
আহত মিরাজ বিশ্বাসের মা পারুল বেগম জানান, বিয়ের পর থেকেই মিরাজের সঙ্গে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পারিবারিক ঝগড়াঝাঁটি চলছিল। বুধবার মধ্যরাতে ঘরে হঠাৎ মিরাজের বিকট চিৎকার শুনে তাঁরা ছুটে যান এবং রক্তাপ্লুত অবস্থায় তার গলা ও নিম্নাঙ্গ কাটা দেখতে পান। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্যা জানান, “আড়ুয়াকান্দি গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে স্বামীর গলা ও গোপনাঙ্গ কাটার অভিযোগে অভিযুক্ত গৃহবধূ সুমাইয়াকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”ছবি সংগৃহীত।
