স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের ঝিকরগাছায় ৫ম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১৩ বছর বয়সী কিশোরী সাদিয়া আক্তারের রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, ওই কিশোরীকে নৃশংসভাবে পাশবিক নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে পুলিশ হুমায়ুন কবির (৩০) নামের এক মাদকাসক্ত বখাটে যুবককে গ্রেফতার করে থানা হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
নিহত সাদিয়া আক্তার উপজেলার হাজিরবাগ ইউনিয়নের দেউলী গ্রামের নিঃস্ব ভ্যানচালক শহিদুল ইসলামের মেয়ে এবং স্থানীয় দেওলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গ্রেফতারকৃত হুমায়ুন কবির একই গ্রামের আব্দুস সালাম ওরফে ভোলার ছেলে।
বিজ্ঞাপন
মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে যখন সাদিয়ার মা মাঠে ঘাস কাটতে এবং বাবা ভ্যান নিয়ে মহেশপাড়া বাজারে ছিলেন, তখন বাড়িটি সম্পূর্ণ ফাঁকা ছিল। এই সুযোগে প্রতিবেশী রাজুর ১০ বছরের মেয়ে মিম প্রথমে সাদিয়াকে ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার দেয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাগআঁচড়ার একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পিতা শহিদুল ইসলাম ও মা সালমা খাতুন কান্নায় ভেঙে পড়ে অভিযোগ করেন, “প্রতিবেশী বখাটে হুমায়ুন দীর্ঘদিন ধরে সাদিয়াকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। ঘটনার দিন বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে সে ঘরে ঢুকে মেয়েটিকে পাশবিক নির্যাতন শেষে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে।”
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অভিযুক্ত হুমায়ুন কবির একজন দুর্ধর্ষ গাঁজাসেবী ও বহুমাত্রিক নেশায় আসক্ত। নেশার জের ধরে সে ইতিপূর্বে নিজের দুটি স্ত্রীকেই তালাক দিয়েছে। গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে সাদিয়ার মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দেউলী গ্রামের বটতলা মোড় থেকে হুমায়ুনকে গ্রেফতার করে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিকরগাছা থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ঝিকরগাছা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করে আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এদিকে গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তের বক্তব্য বা বিস্তারিত জানতে ঝিকরগাছা থানায় যোগাযোগ করা হলে ডিউটি অফিসার এসআই ফিরোজ জানান, অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ছুটিতে এবং ওসি (তদন্ত) বাইরে থাকায় অনুমতি ছাড়া কোনো তথ্য প্রকাশ সম্ভব নয়। পরবর্তীতে নাভারন সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আরিফের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি বিষয়টি তদন্তাধীন বলে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি। ছবি সংগৃহীত।

