ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে কুয়াকাটা সৈকত !

ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে কুয়াকাটা সৈকত !

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া :

আবহাওয়ার বৈরী বিরুপ আচরন,ঝড়, জলোচ্ছ্বাস কিংবা বর্ষা প্রকৃতির রুদ্ররূপ এলেই কুয়াকাটা সৈকতে শুরু হয় ভয়াবহ ভাঙন। বছরের পর বছর ধরে অব্যাহত ভাঙনে একদিকে যেমন সংকুচিত হচ্ছে সৈকতের প্রস্থ, অন্যদিকে বিলীন হচ্ছে বনাঞ্চল, স্থাপনা ও বসতভিটা। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করলেও এতে স্থায়ী সমাধান মিলছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বরং অপরিকল্পিতভাবে এসব সামগ্রী ব্যবহারে নষ্ট হচ্ছে সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

১৯৯৮ সালে কুয়াকাটাকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করে বাংলাদেশ সরকার। সে সময় লেম্বুরবন থেকে গঙ্গামতির পয়েন্ট পর্যন্ত সৈকতের দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৮ কিলোমিটার। সময়ের সঙ্গে পশ্চিমে তিন নদীর মোহনা থেকে পূর্বে রামনাবাদ মোহনা পর্যন্ত সৈকতের বিস্তৃতি বেড়ে বর্তমানে প্রায় ২৯ কিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। তবে এর বিপরীত চিত্র সৈকতের প্রস্থে। প্রতিবছর ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও সাগরের প্রবল ঢেউয়ে বালু ক্ষয়ে ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে সৈকত।

স্থানীয়দের দাবি, গত ৪০ থেকে ৫০ বছরে সমুদ্র প্রায় দেড় থেকে দুই কিলোমিটার ভেতরের দিকে এগিয়ে এসেছে। অব্যাহত ভাঙনে গত এক দশকে বিলীন হয়েছে নারিকেল বাগান, ডিসি পার্কের একাংশ, পূর্বের জাউবাগান, স্থানীয় সরকার বিভাগের গেস্ট হাউস, হোটেল মোটেলসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। একই সঙ্গে হারিয়ে গেছে বহু মানুষের ঘরবাড়ি। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের মৌসুম এলেই সমুদ্র যেন লোকালয়ের দিকে আরও এগিয়ে আসে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়রা জানান, একসময় কুয়াকাটা সৈকতে ছিল বড় বড় বালুর টেক ও বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল। সমুদ্রের কাছে যেতে দুই থেকে তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হতো। এখন সেই সমুদ্র এসে পৌঁছেছে লোকালয়ের একেবারে কাছে। ফলে কুয়াকাটার অস্তিত্ব ও পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

কুয়াকাটায় ঘুরতে আসা পর্যটক হামিম ও নেয়ামুল বলেন, দূর দূরান্ত থেকে কুয়াকাটায় এসে সৈকতের বর্তমান চিত্র দেখে তারা হতাশ। সৈকত রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

পরিবেশকর্মী ও সংগঠক আবুল হোসেন রাজু বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। বালু ক্ষয়ের কারণে এ সময় বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়ে যায়। এ বছরও ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল, ট্যুরিস্ট বক্স, মসজিদ, মন্দির, মেরিন ড্রাইভসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে রয়েছে। এসব স্থাপনা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

সিকদার রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলাসের জিএম আল আমিন হাওলাদার বলেন, আবহাওয়ার কারণে যেভাবে কুয়াকাটা ভাঙছে, এ অবস্থা চলতে থাকলে পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা কুয়াকাটা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন। সৈকত রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের পরিকল্পিতভাবে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

গণমাধ্যমকর্মী ও পরিবেশকর্মী মেজবাহ উদ্দিন মাননু বলেন, গত ২০ বছর ধরে কুয়াকাটা সৈকতের ১৮ কিলোমিটার এলাকা রক্ষায় স্থায়ী প্রতিরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু প্রকল্পটি এখনো ঝুলে আছে। আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে কুয়াকাটাকে গড়ে তুলতে হলে দ্রুত সৈকত রক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। ম্যানগ্রোভ ও নন ম্যানগ্রোভ উভয় ধরনের বনাঞ্চলই এখন হুমকির মুখে। ইতোমধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ বনাঞ্চল বিলীন হয়ে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড, কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ্ আলম বলেন, কুয়াকাটা সৈকতের ১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার অংশের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়নের জন্য ২০২৪ সালে ৭৫৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আপাতত জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে জিও টিউব ব্যবহার করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।। ছবি-বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু।

আরো পড়ুন

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে ৩০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

নীলগঞ্জে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা : মাছের ঘের থেকে কৃষকের লাশ উদ্ধার

কলাপাড়ায় তুচ্ছ ঘটনায় পিতা পুত্রকে পিটিয়ে আহত

নারী কর্মীকে জুটাপেটা ও নির্যাতনের ঘটনায় নারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

দেরিতে মোগলাই পৌঁছানোয় সহকারীকে মারধর নারী চিকিৎসকের

কলাপাড়ায় ১০ মাসের শিশু রাইয়ান হত্যা : আসামি আল-আমিন ৫ দিনের পুলিশ রিমান্ডে

কলাপাড়ায় বাবার পাশ থেকে নিখোঁজ শিশুর বস্তাবন্দী ভাসমান লাশ উদ্ধার

জলবায়ু অর্থায়নের নামে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ঋণের ফাঁদে ফেলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

লাথির আঘাতে অন্তঃসত্ত্বা নারীর গর্ভপাত ও নবজাতক হত্যা

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *