স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় নিজ ছেলের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে কূলবধূকে একাধিকবার লম্পট শ্বশুরের শারীরিক নিগ্রহ ও নির্যাতনের এক বিভীষিকাময় তথ্য উন্মোচিত হয়েছে। এই জঘন্য অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অভিযুক্ত শ্বশুর মন মিয়াকে (৬৫) গ্রেপ্তার করে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাফাটকে পাঠিয়েছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২১ আগস্ট ২০২৬) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে গৃহবধূর স্বামী বাড়ির অদূরে পারিবারিক মাছের পুকুর পাহারায় নিয়োজিত ছিলেন। নিজ কক্ষে বধূকে একা পেয়ে শ্বশুর মন মিয়া অনধিকার প্রবেশ করে তাঁর ওপর জোরপূর্বক পাশবিক নির্যাতন চালান।
বিজ্ঞাপন
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় মাসখানেক পূর্বেও একই ধরনের গর্হিত কাজ করেছিলেন ওই বৃদ্ধ। সে সময় বিষয়টি স্বজনদের মধ্যে জানাজানি হলে ভুক্তভোগীর স্বামী নিজের বাবার কুকর্মের জন্য স্ত্রীর কাছে অনুশোচনা ও ক্ষমা প্রার্থনা করে ঘটনাটি চেপে যাওয়ার আকুল অনুনয় জানান। তবে সম্প্রতি আবারও একই নির্মম ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে ভুক্তভোগী গৃহবধূ প্রতিবাদ প্রকাশ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন উল্টো ওই বধূকে বেধড়ক মারধর করে এবং প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখার হুমকি প্রদান করে।
স্বজনদের অনবরত নির্যাতন ও শারীরিক নিগ্রহ সহ্য করতে না পেরে গত ২২ আগস্ট ভোররাতে ওই গৃহবধূ কৌশলে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে নিজ পিত্রালয়ে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ২৩ আগস্ট স্বজনরা তাঁকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে জরুরি চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান।
হাসপাতালের গাইনি বিভাগের চিকিৎসক মাহফিদা আক্তার হ্যাপী জানান, নিগ্রহের আলামত পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সোয়াব নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং রিপোর্ট হাতে পেলে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূর মা বাদী হয়ে ২৫ আগস্ট দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা গ্রহণের পরপরই ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের নির্দেশনায় পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মন মিয়াকে আটক করে বিচারালয়ের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করেছে। ছবি সংগৃহীত।

