পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে বাংলাদেশি যাত্রীর ওপর বর্বর নির্যাতন!

পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে বাংলাদেশি যাত্রীর ওপর বর্বর নির্যাতন!

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

প্রতিবেশী দেশ ভারতে প্রবেশের মুহূর্তে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও প্রীতিপ্রদ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন এক বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী ভ্রমণকারী। ভারতে পৌঁছানোর পরই ভারতীয় পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ অন্যায্যভাবে তাঁর ভিসা বাতিল করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, ইমিগ্রেশন পারাপারের সময় জিজ্ঞাসাবাদের অযুহাতে ওই যাত্রীর ওপর শারীরিক হামলা, মারধর ও চরম অমানবিক আচরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বেনাপোল আন্তর্জাতিক স্থলবন্দরের অপর প্রান্তে অবস্থিত ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পয়েন্টে এই নজিরবিহীন ও ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

হেনস্তার শিকার ওই ভুক্তভোগী ব্যক্তির নাম মো. জাকির হোসেন (৪১)। তিনি টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল থানাধীন কাউলজানি গ্রামের এক স্থায়ী বাসিন্দা এবং পেশায় একজন পোশাক তৈরি কারখানার সাধারণ কর্মকর্তা।

ভুক্তভোগী জাকির হোসেন অভিযোগ করে জানান, ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ সদস্য ও গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা তাঁকে কোনো প্রকার যুক্তি সঙ্গত কারণ ছাড়াই আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ‘আইএস’-এর সাথে জড়িত থাকার মনগড়া ও ভিত্তিহীন সন্দেহে দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে জেরা করে। জেরার একপর্যায়ে তাঁর সঙ্গে মারাত্মক অসদাচরণ করা হয় এবং রূঢ়ভাবে গায়ে হাত তুলে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতন শেষে তাঁর ব্যক্তিগত কাছে থাকা এনআরবিসি ব্যাংকের দুটি ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংকের একটি এটিএম কার্ড জোরপূর্বক বাজেয়াপ্ত করে রাখা হয়।

পরবর্তীতে ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাঁর পাসপোর্টে অবিলম্বে ভিসা বাতিলের সিল মেরে নামঞ্জুর করে দিয়ে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। নিজ ভূখণ্ডে ফিরে এসে মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত জাকির হোসেন বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে পুরো মর্মান্তিক ঘটনার বিবরণ প্রদান করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এর পূর্বেও জাকির হোসেন শারীরিক চিকিৎসার উদ্দেশে চারবার বৈধ নথিপত্র নিয়ে ভারতে যাতায়াত করেছেন এবং কলকাতার একটি নামকরা হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করে আসছিলেন। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *