স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
রংপুরের মিঠাপুকুরে জমি ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরে মিজানুর রহমান (৪৬) নামে এক মুদি ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে । গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের চিথলী পশ্চিমপাড়া (পোড়ারহাট) গ্রামে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে।
বিজ্ঞাপন
নিহত মিজানুর রহমান ওই গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। তিনি বাড়ির পাশেই স্থানীয় পোড়ারহাট বাজারে দীর্ঘদিন ধরে মুদি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের মা আজুবা বেগম বাদী হয়ে বুধবার মিঠাপুকুর থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৭-৮ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আসামিরা এলাকা ছেড়ে পলাতক রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবার জানায়, প্রতিবেশী আব্দুল কাফি মুন্সির সঙ্গে জমিজমা নিয়ে মিজানুর রহমানের দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বিরোধ ও আইনি মামলা-মোকদ্দমা চলছিল। ঘটনার দিন মঙ্গলবার দুপুরে মিজানুর নিজ দোকানের সামনে বসে থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষের লোকজন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মোটরসাইকেল দিয়ে তাঁর পায়ে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি আহত হলে প্রতিবাদ জানান। এর জের ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
হত্যার হুমকির মুখে নিজের নিরাপত্তা চেয়ে মিজানুর রহমান ঐদিনই তাঁর মাকে সঙ্গে নিয়ে থানায় যান এবং একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, থানায় জিডি সম্পন্ন করে গভীর রাতে ভ্যানযোগে বাড়ি ফেরার পথে বাজারের কাছাকাছি পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র লোক তাঁদের বহনকারী রিকশা-ভ্যানের গতিরোধ করে।
অভিযোগ উঠেছে— স্থানীয় নুরনবী, নুর মোহাম্মদ, মাসুদ, মোস্তাফিজার, কালাম, মাহফুজারসহ ১০-১২ জন সন্ত্রাসী ধারালো বঁটি, রামদা, ছুরি ও লাঠিসোটা নিয়ে মিজানুরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাঁরা তাঁকে টানা-হেঁচড়া করে ভ্যান থেকে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে।
এ সময় সন্তানকে বাঁচাতে মা আজুবা বেগম আর্তনাদ করে হামলাকারীদের পায়ে ধরে মিনতি করলেও পাষণ্ডরা তাঁকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয় এবং মিজানুরকে পুনরায় নির্মমভাবে কোপাতে থাকে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই মিজানুরের করুণ মৃত্যু হয়। এরপর হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে মিঠাপুকুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এরশাদ আহমেদ জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামি ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান পরিচালনা করছে। দ্রুতই তাঁদের আইনের আওতায় আনা হবে। ছবি সংগৃহীত।

