স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা যখন পরীক্ষার হলে ফোন বন্ধ রেখে পরীক্ষা দিতে ব্যস্ত, ঠিক সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অভিভাবকদের কাছে চাঁদাবাজি চালাচ্ছে এক অভিনব প্রতারক চক্র। কখনো ‘কন্ঠ নকল করে কান্নার আওয়াজ’ আবার কখনো ‘আবাসিক হোটেল থেকে মাদকসহ আটকের ভয়’ দেখিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের বেশ কয়েকটি ঘটনা সামনে আসার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের এক শিক্ষার্থীর মিডটার্ম পরীক্ষা চলাকালে তাঁর মোবাইল বন্ধ থাকায় বাবাকে ফোন করে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেয় প্রতারকেরা। সন্তানকে ছাড়িয়ে নেওয়ার কথা বলে ভয় দেখিয়ে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় তারা। ঠিক তার পরের দিন, ৩০ জুলাই পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীর বাবাকে ফোন করে একই কায়দায় ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হয়।
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ ১ আগস্ট, ডিবি পুলিশ পরিচয়ে আরেক নারী শিক্ষার্থীর মাকে ফোন করে বলা হয়, ‘আপনার মেয়েকে একটি আবাসিক হোটেল থেকে আটক করা হয়েছে।’ এ সময় ফোনের ওপার থেকে এক নারীর কান্নার শব্দ শুনিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দ্রুত বিকাশে পাঠাতে চাপ দেওয়া হয়। তবে ওই অভিভাবক বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে বিষয়টি আগে যাচাই করায় এবার প্রতারকদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলেছেন, শিক্ষার্থীরা কখন পরীক্ষার হলে থাকেন এবং তাঁদের ফোন বন্ধ থাকে—এই গোপন তথ্য বা সময়সূচি প্রতারক চক্র কীভাবে পাচ্ছে?
এ বিষয়ে সহকারী প্রক্টর মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জনি জানান, এটি সুপরিকল্পিত কোনো অপরাধী চক্রের কাজ। তিনি সব শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের কোনো ফোন এলে আতঙ্কিত না হয়ে আগে তথ্য যাচাই করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই বিকাশ বা নগদ অ্যাকাউন্টে টাকা না পাঠানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি তাৎক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানান।
