মো: মাসুদ রানা,ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় স্থানীয় সামাজিক আধিপত্য বিস্তার ও ক্ষোভের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক নারীসহ অন্তত সাতজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর ২০২৬) সকালে উপজেলার পুরাতন বাখরবা গ্রামে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, এলাকায় সামাজিক মাতব্বরি ও প্রভাব বিস্তার করাকে কেন্দ্র করে পুরাতন বাখরবা গ্রামের মাতুব্বর আনু মন্ডল এবং প্রতিপক্ষ বকুল বিশ্বাসের সমর্থক ও অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও উত্তাপ চলে আসছিল।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার সকালে জমিতে রোপণ করা ধানের চারা গরুতে খেয়ে ফেলার ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে আনু মন্ডলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত স্থানীয় প্রবাসী মনি বিশ্বাসের স্ত্রী শামেলা খাতুন প্রতিবাদ জানান। এর জের ধরে বকুল বিশ্বাসের লোকজন শামেলা খাতুনকে মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠে।
প্রবাসীর স্ত্রীকে মারধরের এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে আনু মন্ডল ও বকুল বিশ্বাসের লোকজনের মধ্যে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের সমর্থকেরা ঢাল, রামদা, সর্কি ও লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী চলে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। সংঘর্ষে দুই পক্ষের নারীসহ অন্তত সাতজন রক্তাক্ত জখম হন।
খবর পেয়ে শৈলকুপা থানা-পুলিশের একটি বিশেষ টিম অনতিবিলম্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধাওয়া দিয়ে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং গ্রামের সংঘাতময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য দ্রুত শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্যা জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছে। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে এবং ফের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ওই গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ছবি সংগৃহীত।
