স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও কোনো ধরনের বিঘ্ন ছাড়া উদযাপন নিশ্চিত করতে যশোরের সীমান্ত ঘেঁষা এলাকা এবং শহর অঞ্চলের পূজা মণ্ডপগুলোতে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) অফিস সূত্রে জানা গেছে, তাদের সুনির্দিষ্ট দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার ৮ কিলোমিটার ব্যাপ্তির মধ্যে ২৯টি এবং যশোর শহর এলাকার ২০টি সহ সর্বমোট ৪৯টি পূজা মণ্ডপে এবার সার্বিক নিরাপত্তা বিধান করা হচ্ছে। এসব মণ্ডপ ও সংলগ্ন এলাকায় দুর্গোৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে বিজিবি সদস্যরা দিন-রাত নিরবচ্ছিন্ন টহল, এলাকা রেকি ও বিশেষ মোবাইল পেট্রোল পরিচালনা করছেন। এর পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা সুদৃঢ় করতে স্থানীয় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আনসার বাহিনী এবং পূজা উদযাপন কমিটির দায়িত্বশীলদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে।
অন্যদিকে বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের আওতাধীন সীমান্ত ও শহর এলাকার সর্বমোট ২২২টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে দুই হাজার প্রশিক্ষিত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁরা বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে স্থাপিত ৫২টি অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প থেকে মোবাইল পেট্রোলিং ও দ্রুত সাড়াদানকারী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব সম্পাদন করছেন। যেকোনো জরুরি ও জটিল পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে আর্মার্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ার (এপিসি) প্লাটুন ও বিশেষ প্রশিক্ষিত কে-৯ ডগ স্কোয়াড।
বিজ্ঞাপন
সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা নিয়ে যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা অপতৎপরতা রুখতে বিওপিগুলোতে পর্যাপ্ত বাড়তি জনবল প্রাক-মোতায়েন করা হয়েছে। উৎসব চলাকালে তাৎক্ষণিক যেকোনো সহায়তা ও তথ্য আদান-প্রদানের জন্য ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে চব্বিশ ঘণ্টার জন্য একটি বিশেষ মনিটরিং সেল বা কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সার্বিক উৎসবের ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
ফাইল ছবি সংগৃহীত।

