স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত অসম বাণিজ্য চুক্তি বাতিল এবং সম্প্রতি ঢাকায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি হামলার দ্রুত বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে যশোর। রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে শহরের ব্যস্ততম দড়াটানা ভৈরব চত্বরে ‘সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট, যশোর’-এর ব্যানারে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে উপস্থিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বক্তারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এ দেশের বীর জনগণ স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার ও জাতীয় মর্যাদার জন্য অকাতরে রক্ত দিয়েছে। কোনো বিদেশি প্রভু কিংবা সম্রাজ্যবাদী শক্তির দাসত্ব মেনে নেওয়ার জন্য এ দেশের মানুষ সংগ্রাম করেনি। জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে কোনো নতজানু নীতি ও দেশবিরোধী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না।
জোটের যশোর জেলা সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় নেতা তসলিম উর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বক্তব্য প্রদান করেন সিপিবি যশোর জেলা সভাপতি মাহবুব রহমান মঞ্জু, বাসদ যশোর জেলা সদস্যসচিব হাচিনুর রহমান এবং প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা বিপুল বিশ্বাসসহ অন্যান্য বাম গণতান্ত্রিক নেতৃবৃন্দ। সমাবেশটির সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন বাসদ নেতা আলাউদ্দিন।
বিজ্ঞাপন
বক্তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও জাতীয় সম্পদ বিদেশি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত দেশের অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। একই সঙ্গে ২০৩৭ সালে হস্তান্তরের শর্তে এখনই চরম ব্যয়বহুল বোয়িং বিমান কেনার উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারা বলেন, দেশের বর্তমান সংকটাপন্ন অর্থনীতিতে এ জাতীয় অনাবশ্যক চুক্তি কেবলই জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী।
দেশে ক্রমবর্ধমান উগ্রবাদী তৎপরতার কড়া সমালোচনা করে বক্তারা বলেন, একদিকে মহাকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘বিদেশি’ আখ্যা দিয়ে তাঁর প্রতিকৃতিতে কালি লেপনের অপচেষ্টা চলছে, অন্যদিকে নীরবে দেশের কৌশলগত সম্পদ বিদেশিদের কাছে সঁপে দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, গ্যাস, তেল ও সারের কৃত্রিম সংকট এবং শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থান সংকুচিত হওয়ার কারণে সাধারণ নাগরিকরা নাভিশ্বাস তুলছেন।
সমাবেশের শেষ পর্যায়ে জোটের শীর্ষ নেতারা হুশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান, অবিলম্বে অসম চুক্তিগুলো বাতিল না করা হলে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে রাজধানীসহ সারাদেশে কড়া প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। একই সাথে প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর ঢাকার হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তাঁরা। ছবি সংগৃহীত।
