শহিদ জয়:
যশোর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের দীর্ঘদিনের আবাসন সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং তাঁদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সাততলাবিশিষ্ট ৪৮টি ফ্ল্যাটসংবলিত একটি আধুনিক আবাসিক ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যশোর শহরের মণিহার সিনেমা হল রোডসংলগ্ন পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
‘পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যশোর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য নিরাপদ আবাসনের সুযোগ বহুগুণ সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী এসব শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এটি একটি ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জোরালো আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ মাহবুবুর রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বিজ্ঞাপন
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা আমাদের এই শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। তাদের শ্রম ও নিষ্ঠার ওপর শহরের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার একটি বড় অংশ নির্ভরশীল। অথচ অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, এসব কর্মীর আবাসনসহ জীবনযাপনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা ধরনের মৌলিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাদের এই আবাসন সমস্যা সমাধান এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বর্তমান সরকার বিভিন্ন বাস্তবমুখী উন্নয়নমূলক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।
তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, এই আবাসিক ভবন নির্মাণকাজ সফলভাবে সম্পন্ন হলে যশোর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা অত্যন্ত মানসম্মত আবাসন সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। এর মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা ও সার্বিক মর্যাদা বৃদ্ধিতেও প্রকল্পটি অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত সাততলাবিশিষ্ট এই ভবনটিতে মোট ৪৮টি ফ্ল্যাট থাকবে। প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) যশোর অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বাস্তবায়ন করছে। শহরের সার্বিক উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতায় পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য এই আবাসিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগকে একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রকল্পটি যথাসময়ে ও শতভাগ মানসম্মতভাবে সম্পন্ন হলে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট চিরতরে নিরসন হবে এবং শহরের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত এই পরিশ্রমী মানুষের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। ছবি সংগৃহীত।

