স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর জেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতির বিস্তার ঘটলেও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে হামের প্রাদুর্ভাব। সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ৩২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, একই সময়ে ডেঙ্গু বা হামে আক্রান্ত হয়ে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যানবিদদের প্রস্তুতকৃত পৃথক দুটি দৈনিক তথ্য বিবরণী হতে এসব ডেঙ্গু ও হামের হালনাগাদ চিত্র জানা গেছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য:
বিজ্ঞাপন
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা যায়, ২৪ ঘণ্টায় সরকারি হাসপাতালে নতুন ভর্তি হওয়া ৩২ জন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ জন অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া বাঘারপাড়ায় ৬ জন, কেশবপুরে ৪ জন, মনিরামপুরে ৪ জন, শার্শায় ৩ জন, ঝিকরগাছায় ১ জন এবং যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ৪ জন নতুন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় সর্বমোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৮৮ জনে। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ১৬৬ জন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ১০১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বছর জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ২ জনের মৃত্যু হয়েছে (উভয় মৃত্যুই যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে)।
হাম পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য:
অন্যদিকে, জেলাজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নিবিড় নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। বিগত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহভাজন ১২ জন হাম রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও নতুন করে কোনো “নিশ্চিত হামের” রোগী শনাক্ত হয়নি। এছাড়া গত এক দিনে চিকিৎসা শেষে ২২ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য মতে, জেলায় সর্বমোট নিশ্চিত হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৪৯ জন। এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে জেলার হাসপাতালগুলোতে সর্বমোট ২০ জন হাম রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মাসুদ রানা জানান, ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করছে। একই সাথে বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে সচেতনতা বজায় রাখার জন্য যশোরবাসীকে পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।
