স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
মানসিক সচেতনতা, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, ইতিবাচক চিন্তাভাবনা তৈরি এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা জটিল প্রতিকূলতা মোকাবিলার কৌশল শেখাতে সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজ, যশোরের আবাসিক ছাত্রীদের নিয়ে এক বিশেষ ‘মাইন্ড প্রোগ্রামিং’ সেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘মনের শিকল ভেঙে শিখরে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে কলেজের তিনটি প্রধান ছাত্রীনিবাসের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী সরাসরি অংশ নেন।
সেশনের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর পূর্বেই শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনচর্চা, মানসিক চাপ, অ্যাকাডেমিক পড়াশোনা, ব্যক্তিগত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, অভ্যাস এবং মনস্তাত্ত্বিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে একটি অনলাইন জরিপের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত সেই তথ্য ও ছাত্রীদের বাস্তব চাহিদাকে কেন্দ্র করেই মূল সেশনের পাঠ্যবিষয় নির্ধারণ করেন প্রধান আলোচক ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. হামিদুল হক (ব্ল্যাক বেল্ট ইন মেমোরি)।
সেশনে দৈনন্দিন মানসিক চাপ ও নেতিবাচক চিন্তাভাবনা জয় করার উপায়, নিজস্ব সুপ্ত সক্ষমতা সম্পর্কে সচেতনতা, অভ্যাস ও মানসিকতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, আত্মবিশ্বাস অর্জন এবং লক্ষ্যকেন্দ্রিক সুনির্দিষ্ট জীবনযাপনের নানা দিক নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। গতানুগতিক বক্তৃতার ধার ধারে না হেঁটে শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও ভাবনাকে প্রাধান্য দিয়ে পুরো সেশনটি পরিচালনা করায় এতে শিক্ষার্থীদের দারুণ স্বতঃস্ফূর্ত ও সক্রিয় অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।
বিজ্ঞাপন
আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. হারুন অর রশিদ। তিনি তাঁর বক্তব্যে শ্রেণিকক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক ও অ্যাকাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশ, সঠিক আত্মসচেতনতা এবং একটি সুস্থ-ইতিবাচক জীবনদৃষ্টি গড়ে তোলার অপরিহার্যতা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরো অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য প্রদান করেন কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর এ কে এম রফিকুল ইসলাম এবং শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক অধ্যাপক মো. আতিয়ার রহমান।
পুরো আয়োজনটির সফল সমন্বয় ও পরিকল্পনায় মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও আবাসিক ছাত্রীনিবাসের হল সুপার নাসরিন সুলতানা। তাঁর সার্বিক উদ্যোগ, পরিকল্পনা ও নিবিড় তত্ত্বাবধানেই ছাত্রীদের মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা ও মানসিক অবস্থাকে প্রাধান্য দিয়ে পুরো সেশনটির কাঠামো তৈরি করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, এমন ব্যতিক্রমী সেশনের পর থেকে নিজেদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, মানসিক চাপ সামলানো এবং অভ্যাসগত পরিবর্তন নিয়ে সম্পূর্ণ নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সেশনের আগে তাঁদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সমস্যার তথ্য সংগ্রহ করে সে অনুযায়ী সেশনের বিষয় সাজানোয় প্রতিটি আলোচনার সাথে তারা নিজেদের জীবনের চরম বাস্তবতার মিল খুঁজে পেয়েছেন। ছবি সংগৃহীত।
