মোঃ মাসুদ রানা, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে গভীর রাতে শাহিনুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে আটক করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে শাহিনুর রহমান ঘটনাস্থল থেকে সরে গেলে পুলিশ সদস্যরা ফিরে যান। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ১টার দিকে উপজেলার মালিয়াট ইউনিয়নের পারখিদ্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
শাহিনুর রহমান ওই গ্রামের নুর আলী মুন্সির ছেলে। পুলিশ বলছে, শাহিনুর রহমান অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন। স্থানীয়দের কাছ থেকে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়ার পর তাকে আটকের জন্য পুলিশ তার বাড়িতে যায়।
কালীগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মনিরুজ্জামান বলেন, শাহিনুর রহমান অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ওই সময়ে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করা ও বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত—এমন অভিযোগ স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও বিভিন্ন মাধ্যমে পুলিশের কাছে এসেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে আটকের চেষ্টা করা হয়। তিনি বলেন, পুলিশ তার বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্যরা বাধা দেন। এ সময় বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সৃষ্টি হয়। সেই সুযোগে শাহিনুর ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
তবে পুলিশের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহিনুর রহমান। তিনি দাবি করেন, ১৯৯৬ সাল থেকে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ওই সময়ে ছাত্রদল ও যুবদলের উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন দায়িত্বে থেকে বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।
শাহিনুরের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দেওয়া হয়েছিল এবং তাকে ক্রসফায়ারের আসামি করা হয়েছিল। সে সময় তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার তাকে সহযোগিতা করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, তাকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি কোনো পদ গ্রহণ করেননি।
সোমবার রাতের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে শাহিনুর রহমান বলেন, রাত ১টার দিকে পুলিশ তার বাড়ির সামনে এসে গেটে লাথি দিয়ে দরজা খুলতে বলে। পরে গেট খুলে দিলে এসআই মনিরুজ্জামান তাকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে সেখানে বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তিনি সেখান থেকে সরে যান।
শাহিনুর আরও দাবি করেন, কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই স্থানীয় এক বিএনপি নেতার হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের ভিত্তিতে তাকে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তাকে থানায় নিতে পারলে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হতে পারে—এমন আশঙ্কায় তিনি সরে যান বলে জানান। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও দাবি করেন।
এদিকে শাহিনুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, তিনি আওয়ামী লীগের কোনো পদ-পদবিতে ছিলেন না। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছিলেন। পরিবারের দাবি, অতীতেও তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছিল।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুলফিকার আলী বলেন, শাহিনুর রহমান বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন এবং এসব কর্মকাণ্ড এখনও অব্যাহত রেখেছেন—এমন অভিযোগ ওই এলাকার একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে পাওয়া গেছে। পুলিশ খোঁজখবর নিয়ে তার বিষয়ে তথ্য পেয়েছে। ওসি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বিনষ্টকারী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কারও সঙ্গে আপস করা হবে না। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পুলিশ ও শাহিনুর রহমানের বক্তব্যে তার রাজনৈতিক পরিচয় এবং তাকে আটকের কারণ নিয়ে পরস্পরবিরোধী দাবি পাওয়া গেছে। তবে গভীর রাতে পুলিশি অভিযান, পরিবারের বাধা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির ঘটনাস্থল থেকে সরে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।
