স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত ২০০৮ সালের বিধিমালা কিংবা ১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইন—এসব আইনি ফ্রেমওয়ার্ক কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে যশোরের ‘পপুলার মেডিকেল সার্ভিস অ্যান্ড হসপিটালে’। প্রতিষ্ঠানটিতে খোলা স্থানে ফেলা হচ্ছে সংক্রামক বর্জ্য ও রাসায়নিক, যা ভৈরব নদে গড়িয়ে ক্যানসার ও হেপাটাইটিসের মতো মারাত্মক রোগের ঝুঁকি ছড়িয়ে দিচ্ছে যশোর শহরজুড়ে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হাসপাতালটির ব্যবহৃত সিরিঞ্জ, ব্যান্ডেজ, পচনশীল সংক্রামক বর্জ্য এবং বিপজ্জনক তরল কেমিক্যাল সুনির্দিষ্ট নিয়মে নিষ্কাশন না করে ফেলা হচ্ছে উন্মুক্ত স্থানে। একই সাথে পয়োনিষ্কাশন ও রাসায়নিক মিশ্রিত বিষাক্ত পানি সরাসরি গিয়ে পড়ছে শহরের কোল ঘেঁষে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী ভৈরব নদে।
শুধু পরিবেশ দূষণই নয়, নদের সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে সেখানে বসানো হয়েছে হাসপাতালের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পাওয়ার স্টেশন। পাশাপাশি যশোর পৌরসভার রাস্তার জায়গা জবরদখল করে ভবনের আয়তন সম্প্রসারণের গুরুতর অভিযোগও উঠেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এসব বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস কিংবা পৌরসভা অবহিত থাকলেও অদৃশ্য কারণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় অধিবাসীদের আরও গুরুতর অভিযোগ, হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার আড়ালে সেবার ছদ্মবেশে চলে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড। আর এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ রুখতে এবং ভুক্তভোগীদের মুখ বন্ধ রাখতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ‘মাসেলম্যান’ ক্যাডার বাহিনী পালন করছে বলেও জানা যায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় সিভিল সার্জন কার্যালয় ও স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তাদের এমন নিরাসক্ত ও রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে শহরজুড়ে তীব্র জনরোষ তৈরি হয়েছে। মাসের পর মাস কোনো আকস্মিক পরিদর্শন বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত না হওয়ায় সচেতন মহলের সন্দেহ, নিয়মিত ‘অদৃশ্য টেবিল নজরানা’ ও প্রভাবশালী মহলের চাপের কাছেই নতিস্বীকার করে বোবা-বধিরের ভূমিকা পালন করছে সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থাগুলো।
এ বিষয়ে জানতে পপুলার মেডিকেল সার্ভিস অ্যান্ড হসপিটাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। অন্যদিকে, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দায়িত্বশীলদের আশ্বাস—শিগগিরই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছবি সংগৃহীত।

