স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের চৌগাছায় বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত মো. হীরাকে রাজনৈতিক হয়রানি ও স্থানীয় একটি চক্রের ষড়যন্ত্রে ‘মিথ্যা নাশকতার মামলায়’ গ্রেপ্তারের অভিযোগ তুলেছেন তাঁর স্ত্রী কেয়া খাতুন। একই সঙ্গে মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রত্যাহার এবং হীরার নিঃশর্ত মুক্তির জোরালো দাবি জানিয়েছেন তিনি।
আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) চৌগাছায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে এসব চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেন কেয়া খাতুন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কেয়া খাতুন জানান, তাঁর স্বামী হীরা ২০০২ সাল থেকে সক্রিয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাঁকে দীর্ঘ দিন ভিটেমাটি ছেড়ে পালিয়ে থাকতে হয়। পরবর্তীতে এলাকায় ফিরলেও তাঁর ওপর একের পর এক রাজনৈতিক মামলা চাপিয়ে দেওয়া হয়। বিগত সরকারের আমলে চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহুরুল ইসলামসহ শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে হীরাকেও একাধিক নাশকতার মামলায় আসামি করা হয়, যা মোকাবিলা করতে তাঁদের উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) পর্যন্ত যেতে হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
কেয়া খাতুনের অভিযোগ, গত ২১ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ তাঁর স্বামীকে তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাঁকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের একটি পুরোনো নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিচারালয়ের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার একজন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মীকে নতুন করে পুরোনো নাশকতার মামলায় চালান দেওয়ার ঘটনায় পরিবারটি চরম উদ্বিগ্ন। স্থানীয় একটি কায়েমী স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁদের পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে পুলিশকে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করেছে। হীরার অতীতের রাজপথের ভূমিকা ও ফেসবুক আইডি পর্যালোচনা করলেই তাঁর ত্যাগের প্রমাণ মিলবে বলে নথিপত্র উপস্থাপন করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে কেয়া খাতুন সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও বিচার বিভাগের নিকট তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানান। অবিলম্বে ষড়যন্ত্রমূলক মামলাটি প্রত্যাহার করে মো. হীরাকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে মো. হীরার শাশুড়ি রাবেয়া বেগম এবং জন্মদাত্রী মা নেসারুন্নেসা উপস্থিত ছিলেন। ছবি সংগৃহীত।
