শহিদ জয়:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন যে, কোনো আংশিক সংশোধন নয়, বরং গণভোটের রায়ের ভিত্তিতেই সংবিধানের মৌলিক সংস্কার করতে হবে। এটি না মানার অর্থই হলো জনগণের আস্থার প্রতি গাদ্দারি ও বিশ্বাসঘাতকতা করা.
আজ রবিবার (১১ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে দলটির তৃতীয় দফার লং মার্চ কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে খুলনা বিভাগীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত এক প্রস্তুতি সভার পূর্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, কোনো ধরনের আইনি পদ্ধতি বা গণভোটের রায় এড়িয়ে একদলীয়ভাবে সংবিধান সংশোধন করার উদ্যোগকে দেশের জনগণ কখনো মেনে নেবে না। লং মার্চ প্রসঙ্গে জামায়াত নেতা বলেন যে, লং মার্চ একটি সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি. এই কর্মসূচির মাধ্যমে জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে জনমত সংঘটিত করা হবে এবং সরকার যে জনগণের বিশ্বাসের প্রতি আঘাত এনেছে তা জাতির সামনে তুলে ধরা হবে।
বিজ্ঞাপন
দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির কথা উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন যে, বর্তমানে সার্বিক নিরাপত্তার অবস্থা এতটাই নাজুক যে পুলিশকে পর্যন্ত একা চলাফেলায় সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। এতে পুলিশ এবং সাধারণ জনগণ—সকলের নিরাপত্তাই চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
এ ছাড়া দফায় দফায় জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন যে, সরকারের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণেই পরিস্থিতি লাগামহীন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে সরকার সারের ডিলারশিপ ও সর্বক্ষেত্রে দলীয়করণের মাধ্যমে একদলীয় শাসন কায়েমের চেষ্টা করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে আগামী ৩১শে অক্টোবর (শনিবার) ঢাকার বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে শুরু হয়ে খুলনা ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়ায় গিয়ে সমাপ্ত হতে যাওয়া এই তৃতীয় দফার লং মার্চ কর্মসূচি সফল করতে দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসেন এবং যশোর জেলা কমিটির আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলসহ দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ছবি সংগৃহীত।
