রফিক মন্ডল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ৮৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে মসজিদের সিঁড়ির রডের সঙ্গে সাইকেলের টিউব দিয়ে বেঁধে অমানবিক নির্যাতন এবং জোরপূর্বক সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের গুড়পাড়া বাজার এবং পার্শ্ববর্তী জগদীশপুর মাঠে এই ঘটনা ঘটে বলে ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবার অভিযোগ করেছেন।
নির্যাতনের শিকার ওই বৃদ্ধের নাম মো. মতিয়ার রহমান বিশ্বাস। তিনি গুড়পাড়া বিশ্বাসপাড়ার মৃত কিনু বিশ্বাসের ছেলে।
বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগীর পারিবািক সূত্র থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে নিজের মেরামত করতে দেওয়া বাইসাইকেলটি আনতে গুড়পাড়া বাজারে একটি দোকানে যান মতিয়ার রহমান। সেখানে পৌঁছানোমাত্রই স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর কাছে জমি লিখে দেওয়ার বিষয়ে জবাব চান এবং চাপ সৃষ্টি করেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তাঁকে টেনেহিঁচড়ে গুড়পাড়া জামে মসজিদের সিঁড়ির রডের সঙ্গে সাইকেলের টিউব দিয়ে শক্ত করে বেঁধে ফেলে এবং এলোপাতাড়ি মারধর করে।
অভিযোগে আরও প্রকাশ পায়, বাজারের সাধারণ মানুষ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বাধা দিতে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা বৃদ্ধকে সেখান থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে নির্জন জগদীশপুর মাঠের ভেতরে চলে যায়। সেখানে তাঁকে মেরে ফেলার ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি ফাঁকা ও সাদা স্ট্যাম্প এবং কিছু লিখিত কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায় করা হয়। এ সময় ওই প্রবীণ বৃদ্ধকে রক্ষা করতে তাঁর ভাইপো সামাউল এগিয়ে এলে তাকেও পিটিয়ে মারাত্মক আহত করা হয়।
ঘটনার তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে ভুক্তভোগী বৃদ্ধের স্বজনেরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সাহায্য চান। খবর পেয়ে গুড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির আভিযানিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে জগদীশপুর মাঠ থেকে মারাত্মক আহত অবস্থায় বৃদ্ধ মতিয়ার রহমানকে উদ্ধার করে স্বজনদের হাতে তুলে দেয়।
ভুক্তভোগী বৃদ্ধ মতিয়ার রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জীবনের এই শেষ প্রান্তে এসে এমন চরম অপমান ও শারীরিক নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হবে তা তিনি কল্পনাও করেননি। তাঁকে নির্মমভাবে বেঁধে রেখে সাদা স্ট্যাম্পে দস্তখত নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত বজলু হোসেনের মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে ফোন কেটে দেন। অন্যদিকে, তাৎক্ষণিকভাবে ফাঁড়ি পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আশি ঊর্ধ্ব এক অসহায় বৃদ্ধের ওপর এ ধরনের মধ্যযুগীয় বর্বরতা ও প্রকাশ্য নির্যাতনে পুরো এলাঙ্গী ইউনিয়নজুড়ে চরম ক্ষোভ, উদ্বেগ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করে কঠোর আইনানুগ শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। ছবি সংগৃহীত।

