কুড়িগ্রাম এক্সেপ্রেসে চলন্ত ট্রেনে যাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ

কুড়িগ্রাম এক্সেপ্রেসে চলন্ত ট্রেনে যাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

রাজধানী ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কুড়িগ্রামগামী ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ আন্তঃনগর ট্রেনের ভেতর এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ক্যন্টিন বয় আবু বক্কর সিদ্দিক (২২)-কে গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে থানা পুলিশ। গতকাল সোমবার (৩১ আগস্ট ২০২৬) নাটোর ও সান্তাহার জংশনের মাঝামাঝি স্থানে চলন্ত ট্রেনে মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

​আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে আটককৃত ক্যন্টিন বয়কে সান্তাহার রেলওয়ে পুলিশ বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে সোপর্দ করেছে। গ্রেপ্তারকৃত আবু বক্কর সিদ্দিক নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামের প্রয়াত মাসুদ রানার ছেলে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

​ঘটনা ও মামলা সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী আন্তঃনগর ট্রেনে কুড়িগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন ৪৪ বছর বয়সী ওই নারী। যাত্রা পথে ট্রেনের খাবারের ক্যন্টিনে গেলে সেখানে ক্যন্টিন বয় আবু বক্কর সিদ্দিকসহ সংঘবদ্ধ একটি চক্র তাকে অবরুদ্ধ করে শ্লীলতাহানি ও নির্যাতন চলায়। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী নারীর চিৎকারে ট্রেনের অন্যান্য যাত্রীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং মূল অভিযুক্ত আবু বক্করকে হাতেনাতে ধরে দায়িত্বরত পুলিশের হাতে তুলে দেন।

​পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে সান্তাহার রেলওয়ে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। চাঞ্চল্যকর এই মামলায় আটক ক্যান্টিন বয় ছাড়াও ট্রেনে দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্যসহ মোট ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

​তবে মামলা ও তদন্তের তথ্য প্রদান নিয়ে রেলওয়ে থানা পুলিশের ভূমিকায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। ঘটনার পর থেকেই সংবাদকর্মীদের কাছে বিস্তারিত তথ্য প্রদানে সময়ক্ষেপণ ও অনীহা দেখাচ্ছেন সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল উদ্দীন।

​স্থানীয় সান্তাহার শহর প্রেস ক্লাবের সভাপতি জিললুর রহমান ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম মন্টু জানান, সোমবার রাতেই মামলার বিষয়ে তথ্য চাইতে গেলে ওসি মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পর বিস্তারিত জানাবেন বলে জানান। তবে মামলায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিজস্ব দুই সদস্য অভিযুক্ত হওয়ায় তাঁদের আড়াল করতেই পুলিশ সুপার বা থানা কর্তৃপক্ষ তথ্য প্রকাশে গড়িমসি করছেন বলে স্থানীয় সাংবাদিকরা দাবি করেন।

এ বিষয়ে সান্তাহার রেলওয়ে থানার ওসি দুলাল উদ্দীন জানান, ভুক্তভোগীর এজাহারে পুলিশ সদস্যের নাম উঠে আসায় পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো শিথিলতা দেখানো হবে না। প্রতীকি ছবি।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *