স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
এক হাতে স্টেনগান, অন্য হাতে ক্যামেরা—মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল রণাঙ্গনে একই সঙ্গে অস্ত্র ও ক্যামেরা হাতে নিয়ে রণাঙ্গনে লড়াই করেছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ফটোসাংবাদিক এস এম সফি। একদিকে গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে সাড়াশী আক্রমণে শত্রু মোকাবিলা করেছেন, অন্যদিকে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম বর্বরতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতার মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করে ইতিহাসের অমূল্য দলিল রেখে গেছেন তিনি। আজ ১০ আগস্ট (সোমবার, ২০২৬) এই গুণী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট ফটোসাংবাদিকের জন্ম ও প্রয়াণ দিবস।
১৯৩৪ সালের ১০ আগস্ট যশোর শহরের চুড়িপট্টিতে জন্মগ্রহণ করেন এস এম সফি। শৈশবে ভারতের জলপাইগুড়ির একটি ছবি তোলার স্টুডিওতে কাজ করার সুবাদে জীবনের প্রথম ক্যামেরা হাতে তুলে নেন। পরবর্তীতে ১৯৬২ সালে বাংলাদেশে ফিরে যশোরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং পরের বছর শহরের রেল রোডে প্রতিষ্ঠা করেন ঐতিহ্যবাহী ‘ফটো ফোকাস’ স্টুডিও।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তিনি প্রায় পাঁচ শতাধিক দুর্লভ ছবি তোলেন। তাঁর তোলা এসব ক্যামেরাবন্দি চিত্রে উঠে আসে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের স্থানীয় দোসরদের পাশবিক নৃশংসতা, রণাঙ্গনের প্রাণবন্ত দৃশ্যপট এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অদম্য বীরত্বের প্রতিচ্ছবি। এই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে তাঁর ধর্মপত্নীও সহযোদ্ধা হিসেবে পাশে থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
বিজ্ঞাপন
স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন প্রাঙ্গণে তাঁর সংগৃহীত যুদ্ধদিনের আলোকচিত্র নিয়ে নানা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে তাঁর সংগৃহীত যুদ্ধের ছবি নিয়ে ‘আলোকচিত্রে একাত্তর’ শীর্ষক একটি বিশেষ প্রকাশনা বাজারে আসে। ১৯৯৭ সালের ১০ আগস্ট ৬৩ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই আলোকচিত্রী বীর।
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৬ সালে ঢাকায় তাঁকে বর্ণাঢ্য জাতীয় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এছাড়া ‘চেতনা’ সহ নানা সামাজিক, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সংস্থা গঠনে তাঁর অগ্রণী ভূমিকা ছিল। তাঁর নিখুঁত ক্যানভাসে ধারণ করা একাত্তরের সেই উত্তাল মুহূর্তগুলো আজও মুক্তিযুদ্ধের আলোকচিত্র ইতিহাসের অনন্য দলিল হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।
