স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
বিদ্যাপীঠের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের অভিযোগ ওঠার ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে পুলিশ জালে তুলতে না পারায় গভীর শঙ্কা ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। যশোরের কেশবপুর উপজেলায় বহুল আলোচিত এই ঘটনার প্রধান আসামি সাতবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জি এম গোলাম হুসাইন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে গেছেন।
অভিযুক্ত ওই শিক্ষক উপজেলার বরণডালী গ্রামের সন্তান শেখ আনসার আলীর ছেলে।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ভুক্তভোগী মেয়েটি বর্তমানে অন্য একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। তবে সে যখন সাতবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল, ঠিক তখন থেকেই অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক তাকে মানসিকভাবে জিম্মি করে যৌন নিপীড়ন চালিয়ে আসছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৭ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষার বিষয়ের ‘সাজেশন’ বুঝিয়ে দেওয়ার ছলে ছুটির দিনে সকালে তাকে স্কুলে ডাকা হয়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ফাঁকা থাকার সুযোগে নিজ অফিস কক্ষের ভেতর শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
লোকলজ্জা ও প্রাণনাশের অব্যাহত হুমকির মুখে বিষয়টি দীর্ঘদিন চেপে রাখলেও পরবর্তীতে শারীরিক অসুস্থতা ও তীব্র মানসিক আতঙ্কের কারণে অবুঝ শিশুটি পরিবারকে সবকিছু খুলে বলে। ঘটনা জানার পরপরই ভুক্তভোগীর পিতা মো. হুমায়ুন কবীর বাদী হয়ে কেশবপুর থানায় সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু মামলা হওয়ার পর দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অভিযুক্তকে আটক করতে পারেনি।
অভিযোগের তির তুলে ভুক্তভোগীর স্বজনেরা জানান, ঘটনার এতদিন পরেও আসামিকে পাকড়াও করতে দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। এতে করে তাঁরা মারাত্মক সামাজিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং অপরাধীর সঠিক সাজা পাওয়া নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন। অবিলম্বে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করার জন্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তাঁরা।
আইনি অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান জানান, ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে থাকা অভিযুক্ত শিক্ষককে সনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। খুব দ্রুতই আসামিকে ধরে আইনের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। ছবি সংগৃহীত।
