স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে মাত্র ১০ টাকায় মোবাইল সিম বিক্রির লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে সহজ-সরল নারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র হাতিয়ে নেওয়ার এক ভয়ঙ্কর জালিয়াতির ঘটনা সামনে এসেছে। নামমাত্র মূল্যে নিবন্ধিত এসব সিম পরবর্তীতে বিকাশসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতারণার কাজে ব্যবহার করছে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র। এর ফলে নিজের অজান্তেই গুরুতর আইনি জটিলতায় পড়ে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় একাধিক নারী।
বিজ্ঞাপন
ঘটনাটি ঘটেছে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার ফুকরা গ্রামে। স্থানীয় ভুক্তভোগী ও গ্রামবাসীর সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি একটি চক্র গ্রামে ভ্রাম্যমাণ ফেরিওয়ালা সেজে ঘরে ঘরে গিয়ে ১০ টাকায় যেকোনো কোম্পানির নতুন সিম বিক্রির প্রস্তাব দেয়। সস্তায় সংযোগ পাওয়ার আশায় গ্রামের বেশ কয়েকজন নারী নিজেদের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান করে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন করেন।
বিজ্ঞাপন
তবে নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শেষ হতেই চতুর বিক্রেতারা নেটওয়ার্ক বিভ্রাটের অজুহাত দেখায় এবং সংযোগটি চালু করে দেওয়ার কথা বলে বায়োমেট্রিক সম্পন্ন হওয়া সিমগুলো নিজেদের কাছে রেখে দেয়। পরবর্তীতে দিন পার হয়ে গেলেও তারা আর সেই সিমগুলো গ্রাহকদের কাছে ফেরত দেয়নি।
ঘটনার কয়েক দিন পর ওই নিবন্ধিত নম্বরগুলো ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিকাশ প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সম্প্রতি বরিশালের এক ব্যক্তির সাথে বিকাশ প্রতারণার ঘটনায় তদন্ত করতে গিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা উক্ত নম্বরের আইডেন্টিটি খুঁজতে গিয়ে কাশিয়ানীর ফুকরা গ্রামের বাসিন্দা আসমা বেগমের নাম ও ঠিকানা খুঁজে পায়।
পরবর্তীতে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ কামরুল ইসলামের কাছে বরিশাল থেকে ফোন করে আসমা বেগমের পরিচয় ও তাঁর বিকাশ জালিয়াতিতে জড়িত থাকার বিষয়টি জানতে চাওয়া হয়। এ খবর পেয়ে হতভম্ব হয়ে পড়েন আসমা বেগম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। নিরপরাধ হওয়া সত্ত্বেও নিজের নামে নিবন্ধিত সিম দিয়ে অন্য কেউ অপরাধ করায় আইনি বিপদের আশঙ্কায় গত ১৫ আগস্ট কাশিয়ানী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
আসমা বেগম জানান, তিনি কেবল নিজের ব্যবহারের জন্য কম খরচে সিমটি কিনেছিলেন। প্রতারণার সাথে তাঁর কোনো দূরতম সম্পর্কও নেই। তবে এখন নিজের এনআইডি ব্যবহৃত হওয়ায় তিনি সামাজিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার ভয়ে আছেন।
একই গ্রামের রোকেয়া বেগম ও নূপুর খানমসহ আরও কয়েকজন নারী একই কৌশলে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রতারক চক্রটি এনআইডি ও বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করে গ্রাহকদের অগোচরে সিমগুলো নিয়ে গা ঢাকা দেয়।
কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। এনআইডি জালিয়াতি ও প্রতারক চক্রটির সদস্যদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

