সকালে বিষ মিশ্রিত খাবার খাইয়ে হাসপাতালে প্রেরন, রাতে ফাঁকা বাড়ির গ্রিল কেটে সর্বস্ব লুট!

সকালে বিষ মিশ্রিত খাবার খাইয়ে হাসপাতালে প্রেরন, রাতে ফাঁকা বাড়ির গ্রিল কেটে সর্বস্ব লুট!

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে অপরাধীদের চরম দুঃসাহসিক ও অভিনব এক চক্রান্তের শিকার হয়েছে একটি পরিবার। খাবারের সাথে ক্ষতিকর ও চেতনা হারানোর উপাদান মিশিয়ে একই পরিবারের দুই শিশুসহ মোট সাত সদস্যকে গুরুতর অসুস্থ করে ফেলার পর ফাঁকা বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। গোপালপুর উপজেলার বাইশকাইল তালুকদার পাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।  জানা যায়, ২৩ আগষ্ট রবিবার সকালে সকালে নাস্তা খাওয়ার সময়, যখন লবণের সাথে মেশানো চেতনানাশক পেটে গিয়ে একে একে পরিবারের সবাই ঢলে পড়েন। তখন প্রতিবেশীরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে প্রথমে গোপালপুর উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যান এবং পরবর্তীতে পাঁচজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, খাবারে মাত্রাতিরিক্ত নেশাজাতীয় বা বিষাক্ত উপাদান মেশানোর কারণেই এই বিষক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের ধারণা, পূর্ব শত্রুতার জেরে কিংবা চুরি সহজ করার উদ্দেশে রান্নাঘরের লবণের পাত্রে আগেই দুষ্কৃতকারীরা ওই ক্ষতিকর পদার্থ মিশিয়ে রেখেছিল। এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর পেয়ে দিনের বেলাতেই পুলিশ গিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং রাতের বেলায় সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়ে আসে। তবে অপরাধীদের রোখা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

পরিবারের সদস্যরা যখন বিষক্রিয়ায় কাবু হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন,গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, ঠিক সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এবার গভীর রাতে গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে চোরচক্র। তারা আলমারি ও ওয়ারড্রব ভেঙে দুই ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ ৫৭ হাজার টাকা, স্মার্টফোন এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জমাজমির কাগজপত্র লুটে নেয়। এমনকি পালিয়ে যাওয়ার সময় ঘুমন্ত গৃহবধূর গলা থেকে স্বর্ণের চেইন পর্যন্ত ছিঁড়ে নিয়ে যায় তারা। পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এই ঘটনার পেছনে সংঘবদ্ধ চক্রের হাত রয়েছে নাকি পারিবারিক শত্রুতার জেরে এই পরিকল্পিত অপরাধ ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *