স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর জেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতির ক্রমান্বয়ে বিস্তার অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নতুন করে আরও ২৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কোনো রোগীর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া এ সময়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে কোনো নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রেকর্ড করা হয়নি।
যশোরের সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের হালনাগাদ ডেঙ্গু সংক্রান্ত তথ্যচিত্র থেকে এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা গেছে। সরকারি ওই প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত যশোর জেলায় সর্বমোট ১ হাজার ৭৩৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৫৬৪ জন রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন।
বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সর্বমোট ১৩০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। অন্যদিকে চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ২ জনের মৃত্যু লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া আক্রান্তদের মধ্য থেকে জটিল রোগীদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে মোট ৩৮ জনকে অন্যান্য বিশেষায়িত হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
উপজেলা ও হাসপাতালগুলোর বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতির তথ্যে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলা সদরের যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে সর্বোচ্চ ৯ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এই হাসপাতালটিতে বর্তমানে ৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং চলতি বছর এখানে মোট ৩৪৪ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন, যার মধ্যে ৩০৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর মধ্যে শার্শা উপজেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং বর্তমানে সেখানে ১৮ জন চিকিৎসাধীন আছেন, যেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৯ জনে। মনিরামপুর উপজেলায় ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৮ জন রোগী ভর্তি হওয়ার পর বর্তমানে মোট চিকিৎসাধীন আছেন ১১ জন, আর এ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ১১২ জন।
অভয়নগর উপজেলায় নতুন ১ জন রোগী ভর্তির মধ্য দিয়ে সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে, যেখানে জেলার মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ সর্বমোট ৬৭৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। কেশবপুর উপজেলায় নতুন ১ জন ভর্তি হয়ে বর্তমানে ৯ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং সর্বমোট আক্রান্ত ২০৭ জন। ঝিকরগাছা উপজেলায় ২৪ ঘণ্টায় নতুন ১ জন ভর্তি হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ৫ জন, যেখানে মোট আক্রান্ত ৬৩ জন।
অন্যদিকে বাঘারপাড়া এবং চৌগাছা উপজেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হননি। তবে বাঘারপাড়ায় আগে ভর্তি থাকা ১৬ জন এবং চৌগাছায় ৩ জন রোগী এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাঘারপাড়ায় এ পর্যন্ত সর্বমোট আক্রান্ত ১৪৯ জন এবং চৌগাছায় ৩৩ জন।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রকাশ করা এই প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যানবিদ মো. শামসুল ফলাক এবং এতে অনুমোদন দিয়েছেন যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানা। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার পাশাপাশি বাসাবাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং মশারি ব্যবহারের পরামর্শ প্রদান অব্যাহত রেখেছে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।
