স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর সদর উপজেলার বিরামপুর এলাকায় অবাধে মাদক বিক্রির প্রতিবাদ ও বাধা দেওয়ায় এক ব্যক্তির বসতবাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা, সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর এবং মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী আরিফুর রহমান বাদল। ঘটনায় জড়িত স্থানীয় জয়ন্ত শেখ, রবি ও মোহনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়েছে।
জিডি ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিরামপুর এলাকার বাসিন্দা আরিফুর রহমান বাদল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের কেনাবেচা ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। এতে তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হয় স্থানীয় একটি সক্রিয় মাদক সিন্ডিকেট।
বিজ্ঞাপন
এরই জেরে বুধবার সকালে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দেশীয় ধারালো রামদা, দা ও কাঠের লাঠিসোঁটায় সজ্জিত হয়ে বাদলের বসতবাড়ির সামনে চড়াও হয়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা বাড়ির সীমানা ও বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বসানো নিরাপত্তা সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরাগুলো কুপিয়ে ও পিটিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।
ভুক্তভোগী বাদল জানান, সিসিটিভি ভাঙচুরের শব্দ পেয়ে তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে এসে বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীরা তাঁর ওপর অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম করা হয়। পরবর্তীতে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাঁকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়।
এ বিষয়ে আরিফুর রহমান বাদল চরম উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় সন্ত্রাসীরা আমাকে এবং আমার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। যেকোনো সময় তারা আমার বড় ধরনের কোনো ক্ষতিসাধন বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে। এ কারণেই নিরাপত্তার স্বার্থে থানায় জিডি করেছি।” তিনি অবিলম্বে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক জড়িত মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছবি সংগৃহীত।

