স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরে সরকারি ভবনের বিদ্যুতের তার চুরির প্রতিবাদ করায় বহুমুখী জ্ঞান চর্চা কেন্দ্র ‘প্রাচ্যসংঘ’-এ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। হামলা চলাকালে ইটের আঘাতে বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও সাংবাদিক বেনজীন খান আহত হয়েছেন।
গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাত ৮টার দিকে শহরের ব্যস্ততম সার্কিট হাউসপাড়া এলাকায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একই এলাকার আইয়ুব বাবুর্চির ছেলে অভিযুক্ত শাকিলের (৩০) বিরুদ্ধে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
থানায় দায়ের করা অভিযোগ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত শাকিল প্রাচ্যসংঘের পাশে অবস্থিত শিক্ষা অধিদপ্তরের ভবনের বিদ্যুতের ক্যাবল চুরি করার চেষ্টা চালান। বিষয়টি স্থানীয়দের দৃষ্টিগোচর হলে প্রাচ্যসংঘের সদস্যরা তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং প্রাথমিকভাবে শাসন ও সতর্ক করে ছেড়ে দেন। তবে এ ঘটনার জের ধরে ওই দিন দিবাগত রাতেই দুষ্কৃতকারীরা প্রাচ্যসংঘের চারতলা ভবনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের তামার ক্যাবল চুরি করে নিয়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
পরবর্তীতে ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে অভিযুক্ত শাকিল হাতে লোহার রড নিয়ে প্রাচ্যসংঘ ভবনের সামনে ঘোরাঘুরি করছিলেন। এ সময় সংঘের সদস্যরা তাকে ক্যাবল চুরির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি সাংবাদিক বেনজীন খানকে প্রাণনাশের চরম হুমকি প্রদান করেন। একপর্যায়ে শাকিল কৌশলে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে পার্শ্ববর্তী জেলা স্কুলের প্রাচীর ডিঙিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকে প্রাচ্যসংঘ লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। এতে প্রাচ্যসংঘের জানালার গ্লাস ও আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ছিটকে আসা ইটের আঘাতে বেনজীন খান গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-র পৃথক তিনটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে স্থানীয়রা আহত বেনজীন খানকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চিকিৎসকরা তাকে ছাড়পত্র দেন।
এদিকে সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সিনিয়র সদস্য বেনজীন খানের ওপর হামলা, জীবননাশের হুমকি ও নিরাপত্তার অভাবের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামান এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা অবিলম্বে সন্ত্রাসী শাকিলকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন। ছবি সংগৃহীত।
