স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের চৌগাছা উপজেলায় নির্ধারিত স্থানে মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হলে ঐতিহ্যবাহী কাঁচাবাজারের বিপুলসংখ্যক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। বাজার ও হাজারো মানুষের জীবিকা রক্ষা করতে মাত্র কয়েকশত গজ দূরে বিকল্প সরকারি জমিতে এই মসজিদটি স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
আজ শনিবার দুপুরে যশোর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানঘর ও ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে এই দাবি তোলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি শফি উদ্দীন লিখিত বক্তব্যে জানান, বর্তমানে ২৩ নম্বর খতিয়ানের ৬৮১ নম্বর দাগে মডেল মসজিদ তৈরির যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাতে প্রায় ৬০টি স্থায়ী ও ৬০টি অস্থায়ী দোকান পুরোপুরি উচ্ছেদ হয়ে যাবে। এর ফলে বাজারের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল অন্তত তিন হাজার পরিবার আর্থিক সংকটে পড়বে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, ওই স্থান থেকে মাত্র ৩০০-৪০০ গজ দূরে একই খতিয়ানের ৬৫৩ নম্বর দাগে পাবলিক লাইব্রেরির পেছনে সরকারি ৮৯ শতক ফাঁকা জমি রয়েছে। সেখান থেকে ৪৮ শতক জমি ব্যবহার করেই অনায়াসে আধুনিক মডেল মসজিদ নির্মাণ করা সম্ভব। এতে বাজারেরও কোনো ক্ষতি হবে না, আবার সরকারের উদ্দেশ্যও সফল হবে।
ব্যবসায়ী নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ধর্মীয় এই কাজের সুযোগ নিয়ে কিছু স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক ব্যক্তি চক্রান্তে নেমেছেন। এমনকি নতুন জায়গায় ঘর পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে একটি চক্র ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কাঁচাবাজারের অস্তিত্ব রক্ষায় উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন করা হলে আদালত বর্তমানে নির্ধারিত স্থানে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। তাই স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাজারের স্বার্থে প্রস্তাবিত বিকল্প স্থানে মসজিদটি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন ও উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা। ছবি সংগৃহীত।
