পেটে দেড় কেজি গজ রেখেই সেলাই : প্রসূতির মৃত্যু!

পেটে দেড় কেজি গজ রেখেই সেলাই : প্রসূতির মৃত্যু!

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মতো স্পর্শকাতর অস্ত্রোপচারের সময় কবিতা মণ্ডল (৩৫) নামের এক প্রসূতির পেটের ভেতর প্রায় দেড় কেজি সুতি গজ রেখেই মূঢ়তার মতো সেলাই করে দেওয়ার এক রোমহর্ষক অভিযোগ উঠেছে। অস্ত্রোপচারের সুদীর্ঘ এক মাস ২০ দিন ধরে অবর্ণনীয় যন্ত্রণা সহ্য করার পর অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মেনেছেন ওই নবপ্রসূতি মা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

নিহত কবিতা মণ্ডল রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত বাঘুটিয়া গ্রামের অধিবাসী অশান্ত মন্ডলের সহধর্মিণী।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

গত বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে রাজধানীর কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে নিবিড় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

ঘটনার বিষাদময় বর্ণনা দিয়ে নিহতের স্বামী অশান্ত মণ্ডল জানান, গত ২৯ জুন ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে সন্তান সম্ভবা স্ত্রীকে সিজারের উদ্দেশ্যে ভর্তি করানো হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. লক্ষ্মী রানী দত্ত সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ান। তবে অস্ত্রোপচারের পরদিনই কবিতার পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে উঠতে শুরু করে। যন্ত্রণা অসহনীয় হয়ে উঠলে গত ৩ জুলাই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

তিনি জানান, গত ৭ জুলাই ডা. আব্দুল জলিলের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাকালীন নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে প্রসূতির পেটের ভেতরে দীর্ঘ সময় ধরে প্রায় দেড় কেজি ওজনের অবহেলিত গজ রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়েছে। সেদিনই জরুরি ভিত্তিতে পুনরায় অস্ত্রোপচার করে পেটের ভেতর জমে থাকা সেই পচা গজ বের করে আনেন চিকিৎসকেরা। তবে দীর্ঘ সংক্রমণ ও জটিলতায় বুধবার রাতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন কবিতা। মা হারা দুই মাসের ফুটফুটে কন্যাসন্তান সহ আরও দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে এখন চরম নিঃস্ব ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হতভাগা স্বামী। তিনি এ অমানবিক চিকিৎসক অবহেলার কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ঘটনার পর অভিযুক্ত ডা. লক্ষ্মী রানী দত্ত নিহতের স্বামীর হোয়াটসঅ্যাপে অনুনয় বিনয় করে একটি বার্তা পাঠান। বার্তায় তিনি লেখেন, “দাদা নমস্কার। সব কথার আগে করজোড়ে ক্ষমা প্রার্থী। ভুল মানুষেরই হয়, অনেক ঝামেলার ভিতর থেকে আমি ভুল করে ফেলেছি। বার বার ক্ষমা প্রার্থী আপনার কাছে।”

অভিযোগ ও পাঠানো বার্তার বিষয়ে জানতে ডা. লক্ষ্মী রানী দত্তের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে সংযোগ স্থাপন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ফোন কেটে দেন এবং পরবর্তীতে একাধিকবার কল করা হলেও আর রিসিভ করেননি। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *