রফিক মন্ডল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্য, মানবতা, দেশপ্রেম ও বিদ্রোহী চেতনায় নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করার প্রত্যয়ে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে নজরুলবিষয়ক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। কবির কালজয়ী গান, সাহিত্য ও জীবনদর্শন নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি মনোজ্ঞ সংগীত পরিবেশনায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ।
১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে কোটচাঁদপুর উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক আয়োজনে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. মতিয়ার রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম হোসাইন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, খন্দকার মোশাররফ হোসেন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রেজাউর রহমান, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যক্ষ ও নজরুলচর্চাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আব্দুল মঈন এবং উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. মোহাম্মদ আলী।
এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে অংশ নেন এনসিপির অ্যাম্বাসেডর হৃদয় আহম্মেদ। পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক, আইসিটি শিক্ষক এবং স্থানীয় বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গও এই আয়োজনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
বিজ্ঞাপন
আলোচনা পর্বে বক্তারা কাজী নজরুল ইসলামের অসাম্প্রদায়িকতা, সাম্যবাদী দর্শন, দেশপ্রেম এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী অবস্থানের বিভিন্ন দিক অত্যন্ত সুচারুভাবে তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত কেবল বিনোদনের সাধারণ অনুষঙ্গ নয়; বরং সমাজ থেকে সকল শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি জোরদার করার অন্যতম শক্তিশালী প্রেরণা।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, নজরুলের গান ও কবিতা আমাদের জাতীয় জীবনের গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক সংগ্রামে প্রতিনিয়ত প্রেরণা জুগিয়ে চলেছে। তাঁর অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার শিক্ষা নতুন প্রজন্মের মাঝে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে।
বিশেষ অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত সাহিত্যচর্চা, সংগীতচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁদের মতে, নজরুলের সৃষ্টিকর্মের গভীর তাৎপর্য তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে পৌঁছে দিতে শিক্ষকদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
আলোচনা পর্বের সমাপ্তির পর একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জাতীয় কবির কালজয়ী গান ‘দুর্গম গিরি কান্তার-মরু’ পরিবেশিত হলে পুরো অনুষ্ঠানে এক প্রাণবন্ত ও আবেগঘন আবহ সৃষ্টি হয়। নজরুলের সৃষ্টির মূলমন্ত্র সাম্য, মানবতা ও প্রতিবাদী চেতনাকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মের মাঝে সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল বলে জানান আয়োজকেরা। ছবি সংগৃহীত।

