আ.লীগ নেতার অনুসারীদের হামলায় ‘জুলাইযোদ্ধা’র বাড়িসহ অর্ধশতাধিক বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

আ.লীগ নেতার অনুসারীদের হামলায় ‘জুলাইযোদ্ধা’র বাড়িসহ অর্ধশতাধিক বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের বাহেরান্দী গ্রামে স্থানীয় একটি মসজিদ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ‘জুলাইযোদ্ধা’ তামিম মাতুব্বরের বাড়িসহ অন্তত ৫০টি বসতবাড়িতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘটিত সহিংসতায় উভয়পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়ে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর ২০২৬) সকালে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও তাণ্ডবের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো স্থানীয় পুলিশের বিরুদ্ধে একপেশে আচরণের ও পক্ষপাতিত্বের গুরুতর অভিযোগ তুললেও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তা অস্বীকার করেছেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বাহেরান্দী গ্রামের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বাচ্চু মোড়ল ও লাভলু মোড়লের সঙ্গে একই এলাকার এমদাদ মাতুব্বরের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নানা বিষয়ে বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি এলাকার বাহেরান্দী জামে মসজিদের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে দুই পক্ষের এই বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং হামলার ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ক্ষতিগ্রস্ত ‘জুলাইযোদ্ধা’ তামিম মাতুব্বর অভিযোগ করেন, মাদারীপুর সদর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ একটি বিশেষ পক্ষকে সুবিধা দিয়ে তাদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করেন। এরপর আওয়ামী লীগ নেতা বাচ্চু মোড়ল ও লাভলু মোড়লের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের বাড়িঘরে চড়াও হয় এবং ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট চালিয়ে কয়েকটি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

অন্যদিকে, পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করেছেন মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, তামিম সাহেব সম্পূর্ণ মনগড়া ও মিথ্যা অভিযোগ করছেন। পুলিশের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

ঘটনার বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সুনির্দিষ্ট মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগটি খতিয়ে দেখে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তবে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা বাচ্চু মোড়লসহ অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের এলাকায় পাওয়া যায়নি। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *