স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের শার্শা উপজেলায় বিপুল পরিমাণ বা ১ কেজি হেরোইন জব্দের দীর্ঘ ৭ বছর আগের একটি মাদক মামলায় মো. আলমগীর হোসেন ওরফে মহি পাগলা ওরফে মহি আলমগীর বাবুকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিজ্ঞ বিচারক তাঁকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।
আজ রোববার (১৮ অক্টোবর ২০২৬) যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ষষ্ঠ আদালতের বিচারক শাহিনুর রহমান জনাকীর্ণ আদালতে এই গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামি আলমগীর শার্শা উপজেলার টেংরালী এলাকার মৃত কুদ্দুস সর্দারের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্ত আসামি আদালত কক্ষে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে প্রকাশ, ২০১৭ সালের ১৪ এপ্রিল ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শার্শা থানার তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. ইমামুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের কাজীরবেড় মোড়স্থ যাত্রীছাউনির সামনে তল্লাশি চৌকি বসায়। এ সময় পুলিশের অবস্থান দেখে তড়িঘড়ি করে পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে আলমগীরকে আটক করে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
পরবর্তীতে উপস্থিত জনতার সামনে তাঁর দেহ ও সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি চালিয়ে কোমরে গোঁজা এক রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল এবং ব্যাগে থাকা ১০টি বিশেষ প্যাকেট থেকে মোট ১ কেজি হেরোইন উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পরপরই শার্শা থানায় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা রজু করা হয়। তদন্ত শেষে ওই বছরের ৩১ মে তৎকালীন এসআই সুজাত আলী আদালতে মাদক মামলার অভিযোগপত্র জমা দেন।
দীর্ঘ শুনানি ও প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ শেষে মাদক মামলায় আসামির বিরুদ্ধে আনা অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ বিচারক তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের দণ্ডে দণ্ডিত করেন। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবরে জানা গেছে, একই তারিখে একই অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র আইনের অপর মামলাটি এখনো বিচারাধীন রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

