স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
রাজধানী সংলগ্ন ঢাকার কেরানীগঞ্জে চাঁদার টাকা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে ফরহাদ হোসেন (২৫) নামের এক তরুণ মাছ ব্যবসায়ীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করার খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার দুপুরে শাক্তা ইউনিয়নের আরশিনগর এলাকার একটি চুল কাটার দোকানে প্রকাশ্যে এ নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে বিকালের দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোলা জেলার বাসিন্দা ফরহাদ কেরানীগঞ্জের আরশিনগর মেম্বার গলি এলাকায় পরিবারের সাথে বসবাস করতেন। তিনি প্রতিদিন সকালে মোহাম্মদপুরের মহিরগোলা এলাকায় সড়কের পাশে অস্থায়ী দোকানে মাছ বিক্রি করতেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, উক্ত স্থানে ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য মোহাম্মদপুর কেন্দ্রিক একটি অপরাধী চক্র ও কিশোর গ্যাং ফরহাদের কাছে এককালীন ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। এর পাশাপাশি নিয়মিত দৈনিক চাঁদা পরিশোধের জন্যও চাপ দেওয়া হতো। ফরহাদ এই অন্যায্য দাবি মেনে নিতে অস্বীকার করায় চক্রটির সাথে তার তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনরা জানান, আজ মঙ্গলবার সকালে কেনাবেচা শেষ করে দুপুরে কেরানীগঞ্জে নিজ এলাকায় ফিরে আসেন ফরহাদ। এরপর আরশিনগরের একটি সেলুনে চুল কাটাতে গেলে সাব্বির ও আরমান নামে দুইজনের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল সেখানে অতর্কিত হামলা চালায়। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ফরহাদকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে ফেলে রেখে যায়। পরে প্রতিবেশীরা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিজ্ঞাপন
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, কেরানীগঞ্জ থেকে কুপিয়ে জখম করা এক তরুণকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হওয়ায় ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুস জানান, হত্যাকাণ্ডের মূল সূত্রপাত মূলত রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ফুটপাতের ব্যবসা ও চাঁদাবাজির ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এর জের ধরেই প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীরা আরশিনগর এলাকার সেলুনে ঢুকে ফরহাদকে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে, যা পরবর্তীতে মৃত্যুর রূপ নেয়। এই ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। ছবি সংগৃহীত।
