স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর সদর উপজেলার এড়েন্দা গ্রামে একটি বাড়িতে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের বিষাক্ত চেতনানাশক খাইয়ে নগদ অর্থ, বিপুল পরিমাণ সোনার অলংকার ও রূপার গহনাসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল লুটে নিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা।
ঘটনার তিন দিন পর সোমবার যশোর কোতোয়ালি থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
মামলাটির বাদী হয়েছেন এড়েন্দা গ্রামের বাসিন্দা মদন রায়ের ছেলে হৃদয় রায়। মামলায় অভিযুক্ত নামীয় আসামিরা হলেন—একই এলাকার আমির আলীর ছেলে আহাদ আলী মনি, আমির আলীর স্ত্রী কুলসুম বেগম, কুরবান আলীর ছেলে জিসান এবং দয়ালের ছেলে হাসিব।
বিজ্ঞাপন
মামলার বিবরণ ও লিখিত এজাহারে বাদী হৃদয় রায় জানান, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং পাশের ঘরে থাকা তাঁর কাকা মাধব রায় ও কাকিমা লক্ষ্মী রানীকে নিয়ে তাঁরা রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন ১ অক্টোবর সকাল ১০টা বেজে গেলেও কারও ঘুম না ভাঙায় সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে বাদী ঘুম থেকে উঠে প্রচণ্ড শারীরিক অসুস্থতা বোধ করেন। পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী কক্ষে গিয়ে তিনি দেখতে পান তাঁর বাবা-মা সম্পূর্ণ অচেতন ও অসাড় অবস্থায় পড়ে আছেন।
এ সময় ঘরের দিকে তাকাতেই চোখ কপালে ওঠে বাদীর। স্টিলের আলমারি ও ড্রয়ার ভাঙা এবং আসবাবপত্র এলোমেলো তছনছ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। পাশাপাশি তাঁর কাকা মাধব রায়ের ঘরে গিয়েও একইভাবে তালা ভাঙা ও চুরির একই আলামত দেখতে পান।
বাদীর অভিযোগ ও হিসাব মতে, চোরের দলটি বাড়ি থেকে নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকারও বেশি অর্থ, বেশ কয়েক ভরি সোনা ও রূপার মূল্যবান অলংকারসহ মোট আনুমানিক ২০ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে। ওই সময় অসৎ উদ্দেশ্যে খাবারে বা বাতাসের সাথে কোনো বিষাক্ত চেতনানাশক ব্যবহার করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। মামলায় নাম উল্লেখ করা ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কারণে সন্দেহভাজন ছিল এবং ঘটনার সাথে তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে পরিবারটি দাবি করেছে।
যশোর কোতোয়ালি থানা সূত্রে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় একটি নিয়মিত চুরির মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত চক্রটিকে সনাক্ত করা এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে পুলিশের তদন্ত টিম মাঠে কাজ শুরু করেছে। ছবি সংগৃহীত।

