স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধ ও অবৈধ কারবার দমনের লক্ষ্যে যশোরে পৃথক কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসব অভিযানে ইয়াবাসহ মোট আটজনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে অপরাধের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার ভোরে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অমিত কুমার ঘোষ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের চাঁচড়া সবজিবাগ এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় রাজু আহমেদ (২০) ও কামাল হোসেন (২০) নামের দুই তরুণকে আটক করা হয় এবং তল্লাশি চালিয়ে তাঁদের কাছ থেকে দুই পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।
শনিবার ধৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযোগ গঠনপূর্বক আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব আহম্মেদ ইমন অপরাধের দায়ে প্রত্যেককে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০০ টাকা করে জরিমানার আদেশ প্রদান করেন।
বিজ্ঞাপন
অপরদিকে, গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম ঝুমঝুমপুর মসজিদ বাজার এলাকার একটি মুদি দোকানের সামনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। সে সময় স্থানীয় সাধারণ মানুষের সহায়তায় বাবু (৩০) ও জনি (২৮) নামের দুজনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের দেহ তল্লাশি করে অবৈধ ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
শনিবার তাঁদের সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক শুনানি শেষে প্রত্যেককে এক মাস ১০ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা করেন। এ ছাড়া রায় অনুযায়ী জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও তিন দিন অতিরিক্ত কারাভোগের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাতের বিভিন্ন সময়ে যশোরের চাঁনপাড়া এলাকা, বেনাপোল পোর্ট থানা এবং শার্শা থানা এলাকায় ধারাবাহিক পৃথক অভিযান চালানো হয়। এই বিশেষ অভিযানে ঝন্টু, মোস্তফা বেপারি, শাহিন হোসেন ও রুবেল হোসেন নামের আরও চার মাদক কারবারিকে আটক করে পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে সর্বমোট ২৪০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
আটককৃত এই চারজনকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে জেলা পুলিশের এই ধরনের অভিযান ও তদারকি নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

