স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, একাত্তর এবং চব্বিশের পরাজিত শক্তিরা সমাজে কোনো ধরনের অস্থিরতা কিংবা অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, এ বিষয়ে সকলকে সর্বদা সজাগ থাকতে হবে। মসজিদ ও মন্দিরকে সবসময় রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখতে হবে এবং ধর্মকে পুঁজি করে কেউ যাতে মানুষের মাঝে বিভেদ রেখা টানতে না পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।
আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমীর দিনে সকাল থেকে যশোরের বিভিন্ন মন্দিরে মন্দিরে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের এই দিনের শুভেচ্ছা বিনিময় কর্মসূচি শুরু হয় তাঁর মরহুম পিতা সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের হাতে গড়া আরবপুর ইউনিয়নের খোলাডাঙ্গা কালিতলা আদিবাসী মন্দির পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে। এ সময় মন্দিরে প্রবেশ করলে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষরা উলুধ্বনি ও ফুলের তোড়া দিয়ে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
বিজ্ঞাপন
শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ধর্মীয় কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ে কাউকে দুর্বল বা সবল ভাবার কোনো অবকাশ নেই। এই যশোরের মাটিতে তাঁর যেমন অধিকার রয়েছে, তেমনি একজন সনাতন ধর্মাবলম্বী নাগরিকের সন্তানেরও ঠিক সমপরিমাণ অধিকার রয়েছে। কে হিন্দু, কে মুসলিম কিংবা কে সমতলে বা পাহাড়ে বসবাস করেন—তা কখনো বিবেচ্য বিষয় হতে পারে না। আমরা প্রতিটি মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের যে শিক্ষা দিয়েছেন, সেই আদর্শ অনুসরণ করে বিএনপি কখনো হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ বা বিভাজনে বিশ্বাস করে না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পিতা-মাতার সেই রাজনৈতিক শিক্ষা লালন করে বৈষম্যহীনভাবে মসজিদ-মন্দির কিংবা কবরস্থান ও শ্মশানের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। নতুন এই বাংলাদেশে কোনো সন্ত্রাসী কিংবা মাদক ব্যবসায়ীর বিন্দুমাত্র স্থান হবে না এবং তাদের কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা পারিবারিক পরিচয় বিবেচনা না করে যেকোনো মূল্যে নির্মূল করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য। নতুন বাংলাদেশ গড়ার এই অগ্রযাত্রায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সকল উদ্যোগ সফল করতে তিনি সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, সাবেক সহসভাপতি গোলাম রেজা দুলু, সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কাজী আজম ও সিরাজুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক আব্দার হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক ও আশরাফুজ্জামান মিঠু, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট যশোর জেলা শাখার সদস্য সচিব নির্মল কুমার বিট, আদিবাসী মন্দির কমিটির সভাপতি মিন্টু কর্মকার ও সাধারণ সম্পাদক বরুণ কর্মকারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
খোলাডাঙ্গা মন্দির পরিদর্শনের পর প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত একে একে দেহাড়া ইউনিয়নের চান্দুটিয়া সার্বজনীন পূজা মন্দির পরিদর্শন করেন এবং সেখানে ভক্তদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরবর্তীতে তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকার চূড়ামনকাটি দাশপাড়া, কাশিমপুরের বিজয়নগর কুন্ডুপাড়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির এবং নওয়াপাড়ার বাহাদুরপুর সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরসহ বিভিন্ন মণ্ডপ সশরীরে পরিদর্শন করে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাইবোনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ছবি সংগৃহীত।
