স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার চিনাটোলায় মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে শহীদ হওয়া পাঁচ বিপ্লবী কমরেড আসাদ, শান্তি, মানিক, তোজো ও ফজলুর ৫৫তম প্রয়াণ ও মৃত্যুবার্ষিকী ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে পালিত হয়েছে।
আজ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর ২০২৬) সকালে চিনাটোলায় শহীদদের সমাধিস্থলে প্রগতিশীল বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী, তরুণ কমরেড, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে পুষ্পমাল্য অর্পণ, এক মিনিট নীরবতা পালন এবং নতুন প্রত্যয়ে শপথ পাঠের মধ্য দিয়ে তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।
জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) ও জাতীয় ছাত্রদলের যশোর জেলা কমিটির যৌথ ব্যবস্থাপনায় এই দিনব্যাপী কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির যশোর জেলা কমিটি, যশোরের সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন লাল মশাল, শহীদ স্মৃতিরক্ষা কমিটি, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের যশোর জেলা, মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলা কমিটি এবং আসাদ স্মৃতি সংঘের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গড়ভাঙ্গা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রীবৃন্দ, স্থানীয় তরুণ কমরেড, আদিবাসী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সদস্যসহ সমাজের নানা পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
আয়োজক ও স্থানীয় ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২৩ অক্টোবর মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মনিরামপুরের চিনাটোলা বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে তৎকালীন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী দোসর রাজাকার বাহিনী বিপ্লবী কমরেড আসাদ, শান্তি, মানিক, তোজো ও ফজলুকে আটক করে। পরবর্তীতে চিনাটোলার কাছে হরি নদীর সেতুর ওপর তাঁদের দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ারে গুলি করে হত্যা করে এবং নিথর মরদেহগুলো নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।
শহীদ হওয়া এই পাঁচ বিপ্লবী তৎকালে প্রগতিশীল ছাত্র আন্দোলন, কৃষক সংগ্রাম ও বিপ্লবী কমিউনিস্ট রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত থেকে সাধারণ মানুষের মুক্তি আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। চিনাটোলার স্মৃতিবেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদনকালে বক্তারা এই মহান শহীদদের স্মৃতি যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং তাঁদের ত্যাগ ও সংগ্রামের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জোর তাগিদ ব্যক্ত করেন। ছবি সংগৃহীত।
