ফাইল-চাবি আঁকড়ে অবসরপ্রাপ্ত বিতর্কিত প্রধান শিক্ষক !

ফাইল-চাবি আঁকড়ে অবসরপ্রাপ্ত বিতর্কিত প্রধান শিক্ষক !

মো. মাসুদ রানা, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক চিত্তরঞ্জন পালকে ঘিরে বিতর্কের অবসান ঘটছেই না। অতীতে একাধিকবার বিদ্যালয়ের তহবিল আত্মসাৎ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক কাগজপত্র অবৈধভাবে নিজ হেফাজতে রাখার অভিযোগে খবরের শিরোনাম হওয়া এই শিক্ষক এবার অবসরে যাওয়ার পরও সরকারি নথিপত্র, রেজিস্টার খাতা ও দাপ্তরিক দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়ার বিস্ফোরক অভিযোগে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন।

চাকরির নির্ধারিত বয়সসীমা পূর্ণ হওয়ায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে চিত্তরঞ্জন পাল আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর গ্রহণ করেন। আইন ও নিয়মানুযায়ী অবসরের পরপরই প্রতিষ্ঠানের সমস্ত নথিপত্র, আর্থিক হিসাবের ক্যাশ বই, আলমারির চাবিসহ প্রশাসনিক দায়িত্ব ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে সমর্পণ করার কথা। কিন্তু অবসরের দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও তিনি কোনো চার্জ বুঝিয়ে দেননি।

এ ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুদ্দীন গত ১ অক্টোবর কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর ইউএনও বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিত নির্দেশনা দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

 সাংবাদিকদের কাছে সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুদ্দীন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নথিপত্র ও ক্যাশ বই না পাওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এমনকি শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা তোলা এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। লিখিত অভিযোগ জমা দিলেও এখনো কার্যকর সমাধান না পাওয়ায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শিক্ষক চিত্তরঞ্জন পালের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের রেকর্ড অনেক পুরোনো। ২০২১ সালের ১৯ আগস্ট বিদ্যালয়ের ৯১ হাজার ৩০০ টাকা আত্মসাৎ ও নথিপত্র নিজ দখলে রাখার অপরাধে তিনি বরখাস্ত হন। তার আগে ২০১৪ ও ২০১৫ সালেও মোট ৪ লাখ ৫৬ হাজার টাকা আত্মসাতের দায়ে দুই দফায় সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ২ লাখ ৬১ হাজার টাকা রাজকোষে ফেরত প্রদান এবং মুচলেকা দেওয়ার বিনিময়ে পুনর্বার চাকরিতে বহাল হন তিনি। এছাড়া বিদ্যালয়ের ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ রেজুলেশন খাতা, জমির দলিল, নিয়োগ ফাইল ও অফিশিয়াল সিম নিজের কাছে রেখে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

অভিযোগের বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ জানান, বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে লিখিত অভিযোগটি আমলে নেওয়া হয়েছে এবং মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে সরজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন জানান, বিষয়টি জটিল এবং সাবেক প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে স্থানীয় একটি পক্ষের দীর্ঘদিনের পূর্ববিরোধও রয়েছে। তিনি কেন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র আটকে রাখছেন তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে নতুন এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক চিত্তরঞ্জন পালের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি, ফলে তাঁর কোনো মন্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

কোটচাঁদপুরে অসামাজিক কার্যকলাপসহ বিভিন্ন অভিযোগে নারীসহ ৮ জন গ্রেপ্তার

কালীগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান : দুই মাদক কারবারির ৬ মাসের কারাদণ্ড

কোটচাঁদপুরে হোমিও চিকিৎসাকেন্দ্রে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে নারীসহ ৫ জন আটক

কোটচাঁদপুরে পুরুষদের ব্যর্থতায় হাল ধরলেন নারীরা : নবারণ মহিলা সংঘের অনন্য দুর্গাপূজা

বারোবাজারে সিলিন্ডারে কারচুপি ও মূল্যতালিকা না থাকায় চার প্রতিষ্ঠান দণ্ডিত

কোটচাঁদপুরে নজরুলের গান ও কবিতায় মুখর অনুষ্ঠান : অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান

নামেই প্রথম শ্রেণি, সেবায় শূন্য!

কোটচাঁদপুরে আওয়ামী লীগ নেতা মিলনসহ মাদকসেবী আটক

কালীগঞ্জে ব্যাতিক্রমী আয়োজনে জাতীয় কন্যাশিশু ও আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উদযাপিত

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *