স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
প্রথম স্ত্রীর কোনো ধরনের অনুমতি বা সম্মতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করা, যৌতুক দাবি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে যশোরের আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের বেনাপোল শাখায় কর্মরত একজন কর্মকর্তা। আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) তাঁর প্রথম স্ত্রী মিনা খাতুন বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা করেন।
আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুমনা পাল বাদীর আরজি আমলে নিয়ে অভিযোগের সার্বিক সত্যতা তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য জনতা ব্যাংকের বেনাপোল শাখার ব্যবস্থাপককে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম জেলার শার্শা উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের জামাল উদ্দিনের পুত্র।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৭ অক্টোবর পারিবারিকভাবে তরিকুল ইসলামের সঙ্গে মিনা খাতুনের বিয়ে সম্পন্ন হয়। তাঁদের দীর্ঘ দাম্পত্য সংসারে একটি ছেলে ও একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। ভুক্তভোগী স্ত্রী মিনা খাতুনের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্বামী তরিকুল ইসলাম তাঁর বাবার বাড়ি থেকে ১০ লাখ টাকা যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় চাপ সৃষ্টি করতেন এবং শারীরিক-মানসিক নির্যাতন চালাতেন। সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি মুখ বুজে সব অত্যাচার সহ্য করে এতদিন সংসার করে আসছিলেন।
বিজ্ঞাপন
মামলার বিবরণে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় তরিকুল ইসলাম কুলছুম খাতুন (৩৬) নামের এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে নিজ বাড়িতে উপস্থিত হন। পরবর্তীতে তিনি ওই নারীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে উপস্থিত সকলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। কুলছুম খাতুন ঝিকরগাছা উপজেলার রায়পটন গ্রামের ইদ্রিস আলীর মেয়ে বলে জানা গেছে।
প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করার কারণ জানতে চাইলে স্বামী তরিকুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে মিনা খাতুনের ওপর চড়াও হন এবং তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দেন। এ ঘটনায় সামাজিকভাবে বিচার না পেয়ে অসহায় স্ত্রী শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হন এবং আদালতে মামলা দায়ের করেন। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

