পুলিশের তাড়া খেয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে গাঁজাবাহী মাইক্রোবাস

পুলিশের তাড়া খেয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে গাঁজাবাহী মাইক্রোবাস

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পালানোর সময় ভারতীয় গাঁজাভর্তি একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তীতে পানি থেকে ক্রেনের সাহায্যে গাড়িটি তোলার পাশাপাশি ভেসে ওঠা ৯ বস্তা ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করেছে কসবা থানা পুলিশ।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট ২০২৬) ভোররাতে উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের খিদিরপুর গ্রামে এই শ্বাসরুদ্ধকর ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় গাঁজা পাচারের গোপন খবরের ভিত্তিতে কসবা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল সৈয়দাবাদ-নয়নপুর সড়কে বিশেষ চেকপোস্ট বসায়। এ সময় ঢাকা মেট্রো-চ ১৯-০৭৪০ নম্বরের একটি কালো রঙের মাইক্রোবাস সন্দেহজনকভাবে ওই এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ সেটিকে থামার সংকেত দেয়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তবে চালক গাড়ি না থামিয়ে দ্রুত গতি বাড়িয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে মাইক্রোবাসটির পেছনে ধাওয়া করে। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে দ্রুত পালাতে গিয়ে গাড়িটি কসবা-সৈয়দাবাদ সড়কের সংযোগকারী আন্দিরপাড়-মনকাশাইর সড়কে ঢুকে পড়ে এবং খিদিরপুর গ্রাম অতিক্রমকালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি পার্শ্ববর্তী একটি গভীর পুকুরে তলিয়ে যায়।

ঘটনার পরপরই কসবা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাইক্রোবাসে থাকা মাদক চোরাকারবারি ও চালক সাঁতরে পানি থেকে উঠে আত্মগোপন করে। গাড়িটি পুকুরে ডুবে যাওয়ার পর ভেতর থেকে গাঁজার পোটলাগুলো বাইরে বের হয়ে পানিতে ভাসতে থাকে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে একটি উদ্ধারকারী ক্রেন নিয়ে এসে তলিয়ে যাওয়া মাইক্রোবাসটি ডাঙায় তোলে। পরবর্তীতে পুকুরের পানি থেকে ভাসমান অবস্থায় ৯ বস্তা অবৈধ ভারতীয় গাঁজা জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত গাড়ি ও গাঁজার চালান কসবা থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কসবা থানা পুলিশের অভিযান পরিচালিত হয়। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে দ্রুত গতিতে পালানোর সময় খিদিরপুর এলাকায় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ে যায়। পরে ক্রেন এনে ডুবন্ত গাড়ি ও ৯ বস্তা গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *