স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর ও নড়াইল জেলায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে কোনো প্রকার বিঘ্ন যেন না ঘটে, সে লক্ষ্যে অভূতপূর্ব নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৬)। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিজেদের নিবিড় নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঠ পর্যায় থেকে শুরু করে কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে তিন স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।
আজ রোববার (১৮ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর ১২টায় যশোর শহরের বেজপাড়া আশ্রম রোডস্থ রামকৃষ্ণ আশ্রম পূজামণ্ডপ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন এসআরবি-৬ কোম্পানি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নাঈম উল হক।
গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে এসআরবি অধিনায়ক জানান, এ বছর যশোর ও নড়াইল সীমান্ত ও জেলাজুড়ে সর্বমোট ১ হাজার ২৭৮টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার উৎসব চলছে। এর মধ্যে এককভাবে যশোর জেলায় ৭৪৬টি এবং নড়াইল জেলায় ৫৩২টি মণ্ডপ রয়েছে। পূজা মণ্ডপগুলোতে দর্শনার্থী ও ভক্তদের স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত এবং পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে এসআরবি সদর দপ্তরের সরাসরি দিকনির্দেশনায় বিশেষ অভিযান ও নজরদারি শুরু হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
গৃহীত নিরাপত্তা কৌশলের বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, পুরো এলাকা জুড়ে কার্যকর রয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা বলয়। শহরের এবং সংযোগ সড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে সার্বক্ষণিক চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির পাঁয়তারা রুখে দিতে পূজা মণ্ডপগুলোর আশপাশে গোয়েন্দা বিভাগের বিশেষ টিম এবং সাদা পোশাকে ছায়া টিমের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।
এসআরবি-৬ অধিনায়ক আরও জানান, মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত এসআরবি’র সুসজ্জিত টহল দল সকাল থেকে পরবর্তী সকাল পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে পাহারা দিচ্ছে। তা ছাড়া পুরো কার্যক্রম পরিচালনার জন্য খোলা হয়েছে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল।
তিনি স্পষ্ট করেন যে, জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে নিরাপত্তার কোনো ত্রুটি না রাখতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং আনসার-ভিডিপিসহ সকল সদস্য একযোগে কাজ করছেন, যাতে সাধারণ সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সম্পূর্ণ আতঙ্কহীন ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পারেন। ছবি সংগৃহীত।
