স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
আমানতকারীদের রক্তের পানি করা কষ্টার্জিত অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার এক দুঃসাহসিক চক্রান্তের পর্দা উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। প্রযুক্তির আশ্রয় নিয়ে এবং ভুয়া তথ্যের জাঁতাকলে ফেলে একটি স্বনামধন্য ব্যাংকের এজেন্ট আউটলেট থেকে কোটি টাকারও বেশি অর্থ লোপাট করা হয়েছে। নোয়াখালীর মিরিকপুরের ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসির আউটলেটে দীর্ঘ সময় ধরে চলে এই জালিয়াতি। এই ঘটনায় ৪৮ জন সাধারণ গ্রাহকের আমানতকৃত মোট ১ কোটি ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা প্রতারণামূলকভাবে আত্মসাৎ করা হয়। তদন্তের অগ্রগতিতে পুলিশি রিমান্ড শেষে আদালতের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন আউটলেটের মূল মালিক মোঃ নাছির উদ্দিন প্রকাশ খোকন।
বিজ্ঞাপন
প্রতারণার এই নিখুঁত ছক সাজানো শুরু হয় বছর চারেক আগে থেকে। আউটলেটের মালিক নাছির উদ্দিন এবং তাঁর নিযুক্ত টেলার মোঃ শহিদুল্লাহ প্রকাশ জিয়া মিলে গ্রাহকদের চোখ ফাঁকি দেওয়ার এক অভিনব কৌশল বের করেন। কোনো গ্রাহক টাকা জমা দিতে এলে অভিযুক্তরা ভুয়া সার্ভার ব্যবহার করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ নিত। এরপর প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা ‘সার্ভার ডাউন’ রয়েছে বলে অজুহাত তৈরি করত। গ্রাহকদের বিশ্বাস অর্জন করতে হাতে একটি ভুয়া জমার স্লিপ ধরিয়ে দেওয়া হতো এবং আশ্বস্ত করা হতো যে দ্রুতই টাকা একাউন্টে যোগ হয়ে যাবে। সরল বিশ্বাসে গ্রাহকেরা বাড়ি ফিরে গেলেও সেই টাকা আর কখনোই মূল ব্যাংক একাউন্টে জমা পড়েনি, বরং তা সরাসরি জমা হতো অভিযুক্তদের পকেটে।
বিজ্ঞাপন
আমানতকারীরা যখন তাঁদের একাউন্ট থেকে টাকা তুলতে ব্যর্থ হন এবং জমার হিসাব মেলাতে গিয়ে গরমিল দেখতে পান, তখনই এই বিশাল কারচুপির বিষয়টি আলোতে আসে। ভুক্তভোগীদের তোপের মুখে একপর্যায়ে অভিযুক্তরা গা-ঢাকা দিলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের এরিয়া ম্যানেজার বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটিতে স্থানীয় পুলিশ প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও দীর্ঘ সময় মামলার প্রকৃত রহস্য এবং লুটের টাকার কোনো হদিস মিলছিল না। পরবর্তীতে বিচারালয়ের নির্দেশে পিবিআই তদন্তভার গ্রহণ করার পর নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পুরো প্রতারণার রহস্য উন্মোচন করতে সমর্থ হয়। বর্তমানে আদালত আসামির জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন এবং এই সুসংগঠিত চক্রে আরও প্রভাবশালী কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে জোর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। ছবি সংগৃহীত।


